নিউজ ডেস্ক: ভোটের মাসে তীব্র খাদ্যসংকট মুর্শিদাবাদের রানিনগর-১ ব্লকের স্কুলগুলিতে। চাল সরবরাহ না হওয়ায় গত এপ্রিল মাস জুড়ে মিড-ডে মিলের রান্না বন্ধ রয়েছে এই ব্লকের শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পড়ুয়াদের উপস্থিতিতে। স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের হাজিরা প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধান শিক্ষকরা।

প্রশাসন সূত্রে খবর, রানিনগর-১ ব্লকের ৭৯টি প্রাথমিক, ১১টি মাধ্যমিক, ৫টি মাদ্রাসা এবং ৪৮টি শিশু ও মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রে মিড-ডে মিল পরিষেবা সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছে। যেখানে আগে একটি প্রাথমিক স্কুলে গড়ে ১৫০-১৭৫ জন পড়ুয়া আসত, এখন সেখানে হাজিরা নেমে দাঁড়িয়েছে ৮০-৯০ জনে। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, বারংবার লিখিত আবেদন জানানো সত্ত্বেও ব্লক প্রশাসন চাল সরবরাহের বিষয়ে উদাসীন।

এবিপিটিএ-র ডোমকল জ়োনাল সম্পাদক তথা নশিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনারুল ইসলাম জানান, “মার্চের শেষে চালের আবেদন জানানো হলেও এপ্রিল শেষ, চালের দেখা নেই। রান্না বন্ধ থাকায় স্কুলে পড়ুয়ারা আসতে চাইছে না।” হুদাহেরামপুর প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৌমিত্র দত্তও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এমনকি অভিযোগ উঠেছে, চালের অভাবের কথা অ্যাপে জানালে ব্লক প্রশাসন থেকে প্রধান শিক্ষকদের ‘শো-কজ’ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, প্রকৃত কারণ লুকিয়ে ‘অন্যান্য কারণে’ মিড-ডে মিল বন্ধ বলে টিক দিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

যদিও হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রানিনগর-১ এর বিডিও সৈকত বিশ্বাস। তাঁর দাবি, জেলা থেকে চাল না আসাতেই এই বিপত্তি। তবে পার্শ্ববর্তী ডোমকল বা জলঙ্গি ব্লকে এই সমস্যা না থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রানিনগর-১ অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক তপশ্রী মুখোপাধ্যায় এবং মিড-ডে মিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুমন ত্রিবেদী জানিয়েছেন, ভোটের কাজের ব্যস্ততার কারণে চাল সরবরাহে দেরি হয়েছে।

জেলা মিড-ডে মিলের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক চিত্তজিৎ বসু জানান, চাল মজুত রাখার ক্ষেত্রে কোনও ত্রুটির কারণে এই সমস্যা হতে পারে। তবে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রানিনগর-১ ব্লকের প্রতিটি স্কুলে চাল পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

Share on Social Media