নিউজ ডেস্ক: একদিকে রাজনীতির চড়া পারদ, অন্যদিকে মধ্য গগনে সূর্যদেবের রক্তচক্ষু— দুইয়ের দাপটে এখন রীতিমতো তপ্ত বাংলা। তবে এই নির্বাচনি উত্তাপের মাঝেই ভ্রমণপ্রিয় বাঙালির মন এখন ডানা মেলছে হিমালয়ের পাইন বনে কিংবা দিঘার সৈকতে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ভোটপর্ব মিটে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার ঠিক পরেই শুরু হচ্ছে স্কুল-কলেজের গ্রীষ্মকালীন ছুটি। আর সেই ছুটিতেই ‘ডেস্টিনেশন হলিডে’ নিশ্চিত করতে এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা পর্যটন মহলে।
পছন্দের তালিকায় পাহাড় ও সমুদ্র: ট্যুর অপারেটরদের মতে, প্রতিবারের মতো এবারও বাঙালির অলিখিত ‘জাতীয় পর্যটন কেন্দ্র’ দিঘা, পুরী এবং দার্জিলিংয়ের চাহিদা তুঙ্গে। তবে এবার উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি পথ বেছে নেওয়ার ঝোঁক বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। হৃষীকেশ, মুসৌরি, নৈনিতাল থেকে শুরু করে সিমলা, কুলু বা স্পিতি ভ্যালির বুকিং এখন আকাশছোঁয়া। ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের প্রবীর সিংহ রায় জানান, “ভোটের ব্যস্ততায় বুকিং কমবে বলে ভেবেছিলাম, কিন্তু আদতে উল্টোটা হয়েছে। অনলাইনের দৌলতে মানুষ ভোটের কাজের ফাঁকেই ঝটপট গ্রীষ্মের ট্যুর প্ল্যান সেরে ফেলছেন।”
ট্রেনের টিকিটে পাহাড়প্রমাণ ওয়েটিং লিস্ট: টিকিট বুকিংয়ের দৌড়ে যারা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন, তাঁদের অবস্থা এখন শোচনীয়। নিউ জলপাইগুড়ি বা কালকা মেল— সব জায়গাতেই ট্রেনের টিকিটের লম্বা প্রতীক্ষাতালিকা। এক সরকারি কর্মী জানান, “এসআইআর (SIR) আর ভোটের ডিউটিতে নাভিশ্বাস দশা। তবু পরিবারের মুখের দিকে চেয়ে ২১ মে-র নিউ জলপাইগুড়ির টিকিটটা আগেভাগে কেটে রেখেছি। ভোট মিটলেই পাহাড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেব।” একই হাল ভোটকর্মীদেরও; বিএলও (BLO) হিসেবে কর্মরত এক স্কুলশিক্ষিকা জানান, এবার চাপের চোটে নিজেই ট্যুর ম্যানেজ করতে না পেরে ট্রাভেল এজেন্সির দ্বারস্থ হয়েছেন সিমলা যাওয়ার জন্য।
অনলাইনেই বাজিমাত: ভোটের উত্তাপ ভ্রমণ পিপাসু বাঙালির বেড়ানোর পথে বাধা হতে পারেনি। বরং ভোটের ডিউটি আর গরম থেকে বাঁচতে এক টুকরো শান্তির খোঁজে অনেক আগেভাগেই তৈরি হয়েছে ‘ব্লু-প্রিন্ট’। ট্যুর অপারেটরদের একাংশ মনে করছেন, মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুন মাসের শেষ পর্যন্ত পাহাড় ও সমুদ্রের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে তিল ধারণের জায়গা থাকবে না। ভোটের ফলাফলের চেয়েও এখন অনেক বাঙালির কাছে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে— ‘ট্রেনের টিকিট কনফার্ম হবে তো?’