নিউজ ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই বড়সড় চমক দিলেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা চলছিল। এবার সেই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করে বুধবার থেকে ‘ওয়াই প্লাস’ (Y+) ক্যাটাগরির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেলেন হুমায়ুন কবীর। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুইজন আধিকারিক ও ১০ জন জওয়ান তাঁর সুরক্ষায় মোতায়েন থাকছেন।
তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই হুমায়ুন কবীর ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেন। নতুন দল গঠনের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানান। আদালতের নির্দেশের পর হুমায়ুন কবীর পুনরায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে আবেদন করেন এবং সেই প্রেক্ষিতেই তাঁকে এই নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে। হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে তিনি দাবি করেন, শাসকদল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের পর তিনি প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা নেই বলেও আদালতে উল্লেখ করেন এবং অজানা নম্বর থেকে একাধিকবার হুমকির ফোন আসার কথাও অভিযোগে জানান। প্রথমে তিনি ‘জেড’ বা ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা চাইলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে ‘ওয়াই প্লাস’ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভোটের ঠিক আগে নিজের নবগঠিত দলের নামও বদল করলেন হুমায়ুন কবীর। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, জনতা উন্নয়ন পার্টির বদলে এবার তাঁর দলের নাম হল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’। দুটি নাম কার্যত একই হলেও সাধারণ মানুষের হয়েই যে তাঁর দল কথা বলবে, সে কথা তিনি ফের একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় হুমায়ুন কবীর একটি বাবরি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং গত বছরের ৬ ডিসেম্বর সেই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর থেকেই তিনি নিজের রাজনৈতিক দল গঠন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে সরব হন।