নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে ফের বারুদের গন্ধ। মঙ্গলবার ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হল একটি রাইফেল ও প্রায় ৮০টি তাজা বোমা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ পুকুরের জল ছেঁচে ফেলতেই এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরকের হদিস মেলে। উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি ‘ওয়াটার প্রুফ’ প্লাস্টিকে মোড়ানো ছিল, যা দেখে তদন্তকারীদের অনুমান এগুলি দীর্ঘদিনের জন্য মজুত করা হয়েছিল।
রাজ্যের পুলিশ অবজার্ভার মনোজ কুমার যখন ভাঙড়ের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন, ঠিক সেই সময়েই এই অস্ত্র উদ্ধার ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এদিন চণ্ডীহাট গ্রাম থেকেও তিনটি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, এক তৃণমূল কর্মীর দোকান থেকেই এই বিস্ফোরকগুলি পাওয়া গিয়েছে। উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই বামুনিয়ায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যাতে একজনের মৃত্যুও হয়। সেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স, মাধবপুর ও উত্তর কাশীপুর থানার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন পুলিশ অবজার্ভার। কত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং কতজনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট তলব করেছেন তিনি।
এদিকে এই অস্ত্র উদ্ধারকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা অভিযোগ করেছেন, “আমরা বন্দুকের রাজনীতি করি না। আইএসএফ এলাকায় অশান্তি ছড়িয়ে তৃণমূলকে বদনাম করার জন্য এসব করছে।” পাল্টা জবাবে আইএসএফ নেতা আরাবুল ইসলাম দাবি করেন, “তৃণমূলের পায়ের তলায় মাটি নেই, তাই ওরা এখন বোমা-বন্দুকের রাজনীতি করছে। বামুনিয়াতে শওকত মোল্লা লোক পাঠিয়েছিল বোমা তৈরির জন্য, সেখানেই বিস্ফোরণ ঘটেছে।” নির্বাচনের আগে ভাঙড়ের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন এখন কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখার।