নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বারুদের স্তূপে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল। শনিবার রাতে ভাটপাড়ায় বিজেপি প্রার্থী পবন সিংয়ের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা যোগেশ শর্মা নামে এক সিআইএসএফ (CISF) জওয়ান। জওয়ানের পায়ে গুলি লেগেছে বলে খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগদ্দল ও ভাটপাড়া এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
থানার ভেতর হাতাহাতি, রণক্ষেত্র জগদ্দল: ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার এবং অর্জুন সিং তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে জগদ্দল থানায় গিয়েছিলেন। খবর পেয়েই অনুগামীদের নিয়ে থানায় হাজির হন তৃণমূল কাউন্সিলর মনোজ পাণ্ডে। মুহূর্তের মধ্যে থানার বাইরে দু’পক্ষের মধ্যে ইটবৃষ্টি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, দু’পক্ষের কর্মীরা থানার ভেতরে ঢুকেও মারপিট শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে অর্জুন সিং ও মনোজ পাণ্ডেকে বের করে দিয়ে থানায় তালা লাগিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
প্রার্থীর বাড়িতে হামলা ও গুলি: থানার উত্তেজনা থিতু হতে না হতেই অশান্তি আছড়ে পড়ে অর্জুন-পুত্র তথা জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী পবন সিংয়ের বাড়িতে। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পবনের বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট ও গালিগালাজ শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তারক্ষী যোগেশ শর্মা বাইরে বেরিয়ে আসতেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই জওয়ানকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর এই হামলা পরিকল্পিত সন্ত্রাস।
অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূলের: কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের ওপর হামলার দায় পুরোপুরি অস্বীকার করেছে শাসকদল। ভাটপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্তের পাল্টা দাবি, তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলার খবর পেয়েই তাঁরা থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে অর্জুন সিংয়ের দলবলই তাঁদের ওপর চড়াও হয়। কে বা কারা গুলি চালিয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এলাকা তপ্ত করতে বিজেপি নিজেরাই এই কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।
তদন্তে পুলিশ: নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন। ঠিক কার বন্দুক থেকে গুলি চলল, তা খতিয়ে দেখতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। জগদ্দল ও ভাটপাড়া জুড়ে চলছে রুট মার্চ। থমথমে এলাকায় নতুন করে যাতে অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।