নিউজ ডেস্ক: সুদূর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দামামা এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল তিলোত্তমার রাজপথে। ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যকার রণংদেহি পরিস্থিতির জেরে টান পড়েছে রাস্তা তৈরির প্রধান উপাদান বিটুমিন বা তরল পিচে। এর ফলে কলকাতা পুরসভার রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণের কাজ কার্যত থমকে যাওয়ার মুখে। পিচের আকালের পাশাপাশি দোসর হয়েছে আকাশছোঁয়া দাম। এক ধাক্কায় পিচের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পুর-কর্তৃপক্ষের।
যুদ্ধের খাঁড়া পিচের জোগানে
বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতায় বন্ধ হয়েছে হরমুজ প্রণালী। ভারত-সহ একাধিক দেশ এই পথ দিয়েই অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল আমদানি করে। যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরাসরি টান পড়েছে বিটুমিনের উৎপাদনে। উল্লেখ্য, অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের একদম শেষ ধাপে পাওয়া যায় এই তরল পিচ। ক্রুড অয়েলের জোগান কম থাকায় তেল সংস্থাগুলি (IOCL) থেকে চাহিদামতো বিটুমিন পাচ্ছে না কলকাতা পুরসভা।
পকেটে টান পুরসভার
জোগানের অভাবের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দাম। পুরসভা সূত্রের খবর:
-
আগের দাম: প্রতি মেট্রিক টন পিচ মিলত ৫২ থেকে ৫৬ হাজার টাকায়।
-
বর্তমান দাম: ১ এপ্রিল থেকে সেই দাম একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ থেকে ৭৮ হাজার টাকায়।
-
অতিরিক্ত খরচ: প্রতিদিন এই বর্ধিত দামের কারণে পুরসভাকে বাড়তি ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা গুনতে হচ্ছে।
শ্লথ হচ্ছে সংস্কারের গতি
পুরসভার সড়ক বিভাগের আধিকারিকদের দাবি, গোরাগাছা এবং পামার বাজারের দু’টি প্লান্টে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন ‘হটমিক্স’ (রাস্তা তৈরির উপকরণ) তৈরি হয়। এর জন্য দিনে অন্তত ১১০ মেট্রিক টন বিটুমিন প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় এবং আকাশছোঁয়া দামের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
এক আধিকারিকের কথায়, “তরল পিচ মজুত করে রাখার মতো বড় পরিকাঠামো আমাদের নেই। বড়জোর দু-তিন দিনের স্টক রাখা যায়। জোগান অনিয়মিত হয়ে পড়ায় সংস্কারের কাজ শ্লথ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকছে না।” বর্ষার আগে শহরের ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামতির যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল, যুদ্ধের এই ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’য় তাতে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন পড়ে গেল।