নিউজ ডেস্ক: স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা একটা বিজ্ঞাপন— ‘কোনও নথি ছাড়াই ৫ মিনিটে লোন নিন’। হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা প্রিয়জনের চিকিৎসার খরচ বা ব্যবসার হঠাৎ প্রয়োজন মেটাতে এই চটকদার বিজ্ঞাপনগুলোই অনেক সময় দেবদূতের মতো মনে হয়। কিন্তু সাবধান! এই ‘দেবদূত’ সেজে থাকা অ্যাপগুলোই আসলে আপনার জীবনকে নরক বানিয়ে দিতে পারে। সম্প্রতি পার্ক স্ট্রিটের ভুয়ো কল সেন্টার কাণ্ড চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, কীভাবে সাধারণ মানুষের অসহায়তাকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি চলছে। আপনার সুরক্ষা আপনার হাতেই— তাই ভুয়ো লোন অ্যাপ চিনতে নজর রাখুন এই বিষয়গুলিতে।
ভুয়ো লোন অ্যাপ চেনার ৫টি সহজ উপায়:
-
অগ্রিম টাকার দাবি: বৈধ কোনও ব্যাংক বা আর্থিক সংস্থা ঋণ দেওয়ার আগে কখনও ‘প্রসেসিং ফি’ বা ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’ হিসেবে আপনার থেকে নগদ টাকা চাইবে না। যদি কোনও অ্যাপ লোন দেওয়ার আগেই টাকা চায়, তবে বুঝবেন সেটি ১০০ শতাংশ জাল।
-
আরবিআই (RBI) রেজিস্ট্রেশন: ভারতে লোন দেওয়ার ব্যবসা করতে গেলে আরবিআই-এর এনবিএফসি (NBFC) লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। অ্যাপের বর্ণনায় বা তাদের ওয়েবসাইটে যদি কোনও বৈধ এনবিএফসি পার্টনারের নাম না থাকে, তবে সেই অ্যাপ থেকে দূরে থাকুন।
-
অস্বাভাবিক অনুমতি (Permissions): লোন অ্যাপ ইনস্টল করার সময় যদি আপনার কন্টাক্ট লিস্ট, গ্যালারি বা ব্যক্তিগত মেসেজ দেখার অনুমতি চায়, তবে সতর্ক হোন। ব্ল্যাকমেল করার উদ্দেশ্যে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করাই এদের আসল লক্ষ্য।
-
অত্যধিক সুদের হার ও কম সময়: ভুয়ো অ্যাপগুলো সাধারণত মাত্র ৭ বা ১৫ দিনের জন্য লোন দেয় এবং সুদের হার হয় আকাশছোঁয়া। অনেক ক্ষেত্রে লোন পরিশোধ করার পরেও বারবার টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
-
অস্পষ্ট ঠিকানা ও কাস্টমার কেয়ার: বৈধ সংস্থাগুলির একটি স্থায়ী অফিস এবং কার্যকরী ইমেল আইডি বা ফোন নম্বর থাকে। ভুয়ো অ্যাপের ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের কোনও সঠিক ঠিকানা নেই এবং ইমেল আইডিগুলো সাধারণত পার্সোনাল ডোমেইনের (যেমন @gmail.com) হয়।
যদি প্রতারিত হন, তবে কী করবেন?
১. সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ: দেরি না করে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারের সাইবার ক্রাইম পোর্টাল (www.cybercrime.gov.in)-এ অভিযোগ জানান। ২. হেল্পলাইন নম্বর: ফোন করুন ১৯৩০ (1930) এই টোল-ফ্রি নম্বরে। এটি সাইবার আর্থিক জালিয়াতি রুখতে চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করে। ৩. প্রমাণ সংগ্রহ: প্রতারকদের সাথে হওয়া কথোপকথনের স্ক্রিনশট এবং পেমেন্টের সমস্ত তথ্য সেভ করে রাখুন। ৪. পরিচিতদের সতর্ক করুন: যদি প্রতারকরা আপনার কন্টাক্ট লিস্টে থাকা ব্যক্তিদের ফোন করে বিরক্ত করে, তবে লজ্জা না পেয়ে সবাইকে জানান যে আপনি সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন এবং কেউ যেন কোনও লিঙ্কে ক্লিক না করে।
মনে রাখবেন, প্রযুক্তির যুগে সতর্কতা অবলম্বন করাই হলো শ্রেষ্ঠ প্রতিরক্ষা। ছোট এক টুকরো প্রলোভনের ফাঁদে পা দেওয়ার আগে দুবার ভাবুন।