নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে বড়সড় প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস হলো। খোদ মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ও অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকদের নাম ব্যবহার করে এবং তাঁদের সই জাল করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলো এক ব্যক্তিকে। ধৃতের নাম তেলু মাঝি, বাড়ি দেওয়ানদিঘি থানার মাহিনগরে। বুধবার বিকেলে মেডিকেল চত্বর থেকেই তাকে আটক করার পর বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানার পুলিশ।
প্রিন্সিপালের নজরদারিতেই কেল্লাফতে: পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজের ভেতরেই বিভিন্ন পদে নিয়োগের নাম করে কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীকে ডেকে পাঠিয়েছিল তেলু। সেখানে নিজেকে ‘প্রভাবশালী’ এবং বড় কর্তাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে লেনদেন চালাচ্ছিল সে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কলেজের নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত প্রিন্সিপালকে জানান। কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি ব্যবস্থা না নিয়ে আড়াল থেকে গোটা ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করেন। এরপর প্রিন্সিপালের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করে।
জব্দ জাল নথি ও টোকেন: ধৃতের কাছ থেকে মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ও একাধিক আধিকারিকের সই করা জাল নিয়োগপত্র এবং নথিপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়াও তার কাছ থেকে তিনটি রহস্যময় টোকেনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, টাকার বিনিময়ে সরকারি চাকরি করে দেওয়ার টোপ দিয়ে এর আগেও সে বহু মানুষকে ঠকিয়েছে। এই চক্রের শিকড় আরও গভীরে এবং এর সঙ্গে হাসপাতালের ভেতরের কেউ বা অন্য কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আদালতে পেশ ও পুলিশি হেফাজত: বর্ধমান মেডিকেল কলেজে এই ধরণের প্রতারণা নতুন নয়। এর আগেও ভিনরাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের ঠকানো এবং মেডিকেলে ভর্তির নাম করে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ধৃত তেলু মাঝিকে বর্ধমান সিজেএম (CJM) আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। হাসপাতালের এক কর্মী জানান, “মেডিকেলের ভেতরেই যে ভাবে জালিয়াতি চলছিল, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই চক্রে বড় কারবারিরা জড়িত থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ।”