নিউজ ডেস্ক: সোমবার সারা রাত দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ। মঙ্গলবার সকালে গণনাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে মৃত মেয়ের ছবির ওপর হাত রেখেছিলেন তিনি, চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়েছিল জল। আর জি কর হাসপাতালে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া সেই ডাক্তারি পড়ুয়ার মা রত্নাদেবীকে এবার পানিহাটি থেকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। রাতে যখন তিনি ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ের শংসাপত্র নিয়ে বেরোলেন, তখনও তাঁর চোখে জল।
পরনে তেরঙা শাড়ি আর হাতে পুরীর মন্দিরের ধ্বজা নিয়ে এদিন সকাল থেকেই গুরুনানক ডেন্টাল কলেজের গণনাকেন্দ্রে ঠায় বসেছিলেন রত্নাদেবী। ভোটপর্বে নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক আক্রমণ ধেয়ে এলেও পানিহাটির মানুষ যে শেষ পর্যন্ত ‘অভয়া’র মায়ের পাশেই দাঁড়িয়েছেন, এদিনের ফলাফল তার প্রমাণ। জয়ের পর আবেগঘন কণ্ঠে রত্নাদেবী বলেন, “আজ আমি নয়, গোটা পানিহাটি জিতেছে। আমার মেয়েকে যে মানুষ ভোলেনি, এই জয় তারই প্রমাণ। এবার মেয়ের ন্যায়বিচারের লড়াই আরও তীব্র হবে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, আর জি করের ঘটনার ক্ষত যে আজও মানুষের মনে টাটকা, পানিহাটির ফল তারই প্রতিফলন। রত্নাদেবীর স্বামী শেখর দেবনাথও এদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “প্রতিজ্ঞা করেছিলাম পানিহাটিকে হুমকির রাজনীতি থেকে মুক্ত করব, আজ সেই স্বপ্ন সফল হলো।” তবে জয়ের আনন্দের মাঝেও সংযত থাকার বার্তা দিয়েছেন নবনির্বাচিত বিধায়ক। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক হিংসা তিনি বরদাস্ত করবেন না।
যদিও পানিহাটির বেশ কিছু এলাকায় তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। রত্নাদেবী অবশ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিরোধী শিবিরের কেউ আক্রান্ত হলে তিনি নিজেই সেখানে ছুটে যাবেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এই জয়কে মেয়ের উদ্দেশেই উৎসর্গ করেছেন দেবনাথ দম্পতি।