নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের দুঁদে ১৫ জন আইপিএস (IPS) আধিকারিককে এবার তামিলনাড়ু ও কেরলে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক করে পাঠাচ্ছে কমিশন। বুধবার নির্বাচন কমিশন সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর খবর মিলেছে। এই তালিকায় রয়েছেন রশিদ মুনির খান, মুরলীধর শর্মা, প্রবীন কুমার ত্রিপাঠী, অলোক রাজোরিয়া ও সৈয়দ ওয়াকার রাজার মতো অভিজ্ঞ পুলিশ কর্তারা। প্রশাসনিক মহলের মতে, ভোট ঘোষণার পর যাঁদের রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন, তাঁদের এবার একেবারে ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া কার্যত নজিরবিহীন।
কমিশন সূত্রে খবর, বিধাননগরের সিপি মুরলীধর শর্মাকে তামিলনাড়ুর আরিয়ালুর এবং জয়ানকোন্ডাম বিধানসভা কেন্দ্রে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বুধবারই তাঁকে সেখানে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। একই ভাবে বাকি ১৪ জন আধিকারিককেও তামিলনাড়ু ও কেরলের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় ভোট তদারকির দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। এর আগে পারভেজ সিদ্দিকী ও প্রিয়াংকা সিংলার মতো আইএএস আধিকারিকদেরও একইভাবে ভিন রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। এমনকি তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে নিয়ে কমিশন ও নবান্নের টানাপড়েন চরমে উঠেছিল।
নবান্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সাধারণত যে রাজ্যে ভোট থাকে, সেখানকার আধিকারিকদের ভিন রাজ্যে পর্যবেক্ষক করে পাঠানোর চল সচরাচর দেখা যায় না। রাজ্যের যুক্তি ছিল, ঘরের ভোট সামলাতেই আধিকারিকদের প্রয়োজন। কিন্তু কমিশন সেই দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে আইপিএস-দেরও বাইরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নয়া রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সূত্রের দাবি, তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্তের ফলে ওই আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও হয়নি।
বুধবার সকালেই রাজ্যের বেশ কিছু জেলাশাসককে বদলি করা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলে জোর আশঙ্কা, তাঁদেরও এবার হয়তো ভিন রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। ভোটের মুখে বাংলার দুঁদে অফিসারদের এভাবে দক্ষিণী রাজ্যে পাঠানোর পিছনে কমিশনের কী সমীকরণ কাজ করছে, তা নিয়ে নবান্নের অন্দরে এখন চাপা উত্তেজনা তুঙ্গে।