নিউজ ডেস্ক: অফিস থেকে বেরিয়ে স্টপেজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও দেখা মিলছে না চেনা রুটের বাসের। রাস্তাঘাট কার্যত খা-খা করছে। যানবাহন সব গেল কোথায়? মঙ্গলবার দুপুরে ময়দান চত্বরে উঁকি দিতেই মিলল সেই উত্তর। সারি সারি দাঁড়িয়ে রয়েছে শয়ে শয়ে বেসরকারি বাস। কেউ বাসের ভিতরেই ঘুমাচ্ছেন, কেউ আবার গাছের তলায় বসে তাস পেটাচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই— ভোটের ডিউটি। প্রথম দফার নির্বাচনের আগেই রাজ্যজুড়ে বেসরকারি বাসের এই আকাল নিত্যযাত্রীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ভোটের গ্রাসে গণপরিবহণ: ময়দানে অপেক্ষারত পরিবহণ শ্রমিকরা জানালেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই প্রচুর বাস বাঁকুড়া ও বীরভূমের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। বাকি যেগুলি দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলিরও ডাক পড়বে যে কোনও সময়। ৩৭ নম্বর অর্থাৎ ঢাকুরিয়া-হাওড়া রুটের এক কর্মী আক্ষেপের সুরে বললেন, “আমাদের রুটে ৪৮টি বাস চলে, এখন প্রায় সব বাসই তুলে নিয়েছে।” একই দশা ৭২ নম্বর রুটেরও। দাসনগর-পার্ক সার্কাস রুটে আগামী কয়েকদিন হাতেগোনা মাত্র ৯টি বাস চলবে। এছাড়া ১২সি/১, ৪৭, ৪৭বি, ৪৫, ২০৫ রুটের বাসের লম্বা লাইন এখন ময়দানের চেনা ছবি।
নিত্যযাত্রীদের নাভিশ্বাস: সল্টলেক, বাইপাস বা শ্যামবাজার— সর্বত্রই বাসের জন্য হাহাকার। বিশেষ করে রাতের দিকে যখন মেট্রো পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা এই বেসরকারি বাসগুলি। নিত্যযাত্রীদের কথায়, “প্রতিদিন অ্যাপ ক্যাব ভাড়া করে বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়। অফিস থেকে বেরিয়ে মেট্রো ধরাও সবসময় সম্ভব হয় না। এখন ভোট না মেটা পর্যন্ত এই ভোগান্তিই বোধহয় ভবিতব্য।” বেসরকারি বাস মালিকদের দাবি, প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ বাস ইতিমধ্যেই ভোট ও পুলিশের ডিউটির জন্য তুলে নেওয়া হয়েছে।
কতদিন চলবে এই আকাল? জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, “পুলিশ ও ভোটকর্মীদের যাতায়াতের জন্য প্রায় এক মাস আগে থেকেই বাস নেওয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকে প্রথম দফার জন্য জেলাগুলোতে বাস যাওয়া শুরু হয়েছে। মোটামুটি ৬ মে পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলার সম্ভাবনা। মানুষকে আরও কয়েকদিন এই দুর্ভোগ পোহাতেই হবে।” ফলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত গণপরিবহণ ব্যবস্থা যে ধুঁকবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।