নিউজ ডেস্ক: কবি শ্রীজাতর নামে কৃষ্ণনগর আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়াকে কেন্দ্র করে বুধবার দিনভর তোলপাড় চলল বাংলার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশন বিষয়টিকে ‘ভুয়ো’ বলে দাবি করেছে, অন্যদিকে শ্রীজাত নিজে সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, খবরের এক চুলও মিথ্যা নয়। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উদ্বেগ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর: বুধবার সকাল থেকেই শ্রীজাতর গ্রেপ্তারি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সকাল থেকে একের পর এক ফোন-মেসেজ এসেছে। শ্রীজাতকে নাকি কেউ ফোন করে বলেছেন, আপনাকে গ্রেপ্তার করা হবে। আমি ওঁকে সঙ্গে সঙ্গে ফোন করলাম। এ আবার কী!” মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরেও গুরুত্ব পায়। যদিও এর মাঝেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে জানানো হয় যে, এই খবরটি ‘ভুয়ো’।
কমিশনকে পাল্টা প্রশ্ন শ্রীজাতর: কমিশনের এই তড়িঘড়ি ঘোষণায় বিস্মিত শ্রীজাত নিজেও। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “কাউকে দায়ী করার আগেই কেন কমিশন এই উত্তর দিতে গেল, তা বুঝতে পারছি না।” বিকেলের দিকে সমাজমাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে লেখেন, “আমার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। খবরটা ভুয়ো নয়, একশো ভাগ সত্যি। আপাতত এইটুকুই। বাকি কথা পরে হবে।” তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বস্ত সূত্র মারফত তিনি এই খবর নিশ্চিত করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, আদালতের পরোয়ানা লালবাজারে এলে স্থানীয় থানার মাধ্যমে তা কার্যকর করা হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট: জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে একটি কবিতা লেখাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগর আদালতে শ্রীজাতর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগকারী আইনজীবী রমিত শীল বলেন, “আমি হিন্দু মানুষের ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখেই এই মামলাটি করিয়েছিলাম।” সেই পুরনো মামলার ভিত্তিতেই আদালত এবার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটের আবহে একজন জনপ্রিয় কবির বিরুদ্ধে এহেন আইনি পদক্ষেপ কেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। শ্রীজাত জানিয়েছেন, আইনের পথেই তিনি এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করবেন।