পুরুলিয়া: গত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র্যাগিংয়ের কালো ছায়া বারবার শিরোনামে উঠে এসেছে। এবার সেই ছায়া সরাতে কড়া দাওয়াই প্রয়োগ করল পুরুলিয়া সরকারি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রথম বর্ষের এক ছাত্রকে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থা করার অভিযোগে দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ষের দুই ছাত্রকে দুই বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হলো। পাশাপাশি ওই দুই অভিযুক্ত ডাক্তারি পড়ুয়া আর কোনও দিনই কলেজের হস্টেলে থাকতে পারবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তিতে নিগৃহীত ছাত্রের পরিবার।
গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম বর্ষের পড়ুয়া মেহবুব ইসলামকে হস্টেলের ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে র্যাগিং করার অভিযোগ ওঠে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ঋষভ সিংহ এবং চতুর্থ বর্ষের ছাত্র অয়ন বাগচীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সিনিয়রের কথা মতো আরও কয়েকজন পড়ুয়া মিলে মেহবুবের ওপর শারীরিক নিগ্রহ চালায়, যার জেরে তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসাও করাতে হয়। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের ডোমকল থেকে মেহবুবের পরিবার কলেজে এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং কড়া ব্যবস্থার দাবি জানান।
তদন্তে নেমে র্যাগিংয়ের প্রমাণ পাওয়ায় শনিবার কলেজের অধ্যক্ষ সব্যসাচী দাস অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই কঠিন শাস্তির ঘোষণা করেন। অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনা রুখতে কলেজে নতুন হেল্পলাইন নম্বর এবং সিসি ক্যামেরার নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। নিগৃহীত ছাত্রের মা মলিনা খাতুন বলেন, “কর্তৃপক্ষ যে পদক্ষেপ করেছেন তাতে আমরা সন্তুষ্ট।” ক্যাম্পাসে র্যাগিং মুক্ত পরিবেশ ফেরাতে এই সিদ্ধান্ত এক নজিরবিহীন উদাহরণ হয়ে থাকবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।