নিউজ ডেস্ক: সাধারণ মানুষের সরকারি প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল। গ্রাহকদের বিশ্বাস জয় করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করার অভিযোগে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ শনিবার রাতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম অমিত কর, যিনি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট বা সিএসপি (CSP) চালাতেন।
প্রতারণার কৌশল: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রিজেন্ট পার্ক এলাকাতেই ওই সিএসপি সেন্টারটি অবস্থিত ছিল। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যখন মুর অ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা মধুপর্ণা রায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলতে সেখানে যান। অভিযুক্ত অমিত তাঁর কাছ থেকে ব্যাংকের পাশবই-সহ প্রয়োজনীয় নথি এবং আঙুলের ছাপ নিয়ে নেয়। কিন্তু টাকা চাইলে বলা হয়, অনলাইন ব্যাংকিংয়ে সমস্যার কারণে এখন পেমেন্ট দেওয়া সম্ভব নয়। পরে ডিসেম্বরে মধুপর্ণাদেবী মোবাইলে মেসেজ পান যে, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ হাজার টাকা উঠে গিয়েছে।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার:
-
মিথ্যা সাফাই: জালিয়াতির বিষয়টি নিয়ে সিএসপিতে যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত অমিত দাবি করে যে, মধুপর্ণাদেবী সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং এতে সেন্টারের কিছু করার নেই।
-
একাধিক অভিযোগ: পরে জানা যায়, আরও অনেক মহিলা ওই সেন্টারে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলতে গিয়ে একইভাবে প্রতারিত হয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রিজেন্ট পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মধুপর্ণাদেবী।
-
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ: পুলিশের তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্রাহকদের টাকা সরাসরি ওই সিএসপি মালিকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। এর পরেই পুলিশ অমিতের অ্যাকাউন্টটি ‘ফ্রিজ’ করার নির্দেশ দেয় এবং শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, শুধুমাত্র মধুপর্ণা রায় নন, আরও অনেকের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা একইভাবে নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়েছিল অভিযুক্ত অমিত। বর্তমানে পুলিশ ধৃতকে জেরা করে এই চক্রের গভীরতা জানার চেষ্টা করছে।