নিউজ ডেস্ক: ফের একবার রেল চালকদের তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল এক বুনো হাতি। শনিবার বিকেলে আলিপুরদুয়ার জেলার রাজাভাতখাওয়া স্টেশনের ডাউন অ্যাডভান্স স্টার্টার সিগন্যালের কাছে এই ঘটনাটি ঘটে। চালকদের এই বন্যপ্রাণ-সংবেদনশীলতা এবং সময়োচিত সিদ্ধান্তের জেরে শিলিগুড়ি-আলিপুরদুয়ার ইন্টারসিটি রুটে আরও একটি রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হল।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ধুবড়ি-শিলিগুড়ি ডেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি (৭৫৭৪২ ডাউন) রাজাভাতখাওয়া স্টেশনে ঢোকার অপেক্ষায় ছিল। সেই সময় লাইনের ওপর একটি হাতিকে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেন লোকো পাইলট মাধব বর্মন এবং সহকারী লোকো পাইলট সুব্রত দেবশর্মা। বিপদ বুঝে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তাঁরা ট্রেনের এমার্জেন্সি ব্রেক কষেন। ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই এলাকায় ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রিত থাকায় দ্রুত ট্রেনটিকে থামানো সম্ভব হয়।
প্রায় পাঁচ মিনিট ট্রেনটি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে। হাতিটি নিরাপদ দূরত্বে লাইন পার হয়ে গভীর জঙ্গলে অদৃশ্য হওয়ার পর ফের গন্তব্যের অভিমুখে রওনা দেয় ডেমু প্যাসেঞ্জার। ডুয়ার্সের এই রুটে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু রুখতে রেল ও বন দপ্তর যৌথভাবে কাজ করে চলেছে। চালকদের এই বিশেষ সতর্কতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। বন্যপ্রাণ প্রেমীদের মতে, গত কয়েক বছরে চালকদের এই ধরণের পেশাদারিত্ব ও সচেতনতা ডুয়ার্সে হাতির মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে এনেছে।