নিউজ ডেস্ক: দলকে পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করার মাশুল দিতে হলো তৃণমূল কংগ্রেসকে। হুগলির ঐতিহাসিক আন্দোলনের মাটি সিঙ্গুরেই কার্যত রাজনৈতিক সমাধি ঘটল রাজ্য সরকারের কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্নার। নবাগত বিজেপি প্রার্থী তথা চিকিৎসক অরূপকুমার দাস দাপুটে এই নেতাকে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। একই সঙ্গে রাত পর্যন্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে দুলছে তাঁর স্ত্রী তথা হরিপালের তৃণমূল প্রার্থী করবী মান্নার ভাগ্য।
সিঙ্গুর ও হরিপাল— এই দুই কেন্দ্রেই স্বামী-স্ত্রীকে প্রার্থী করা নিয়ে ২০২১ সাল থেকেই তৃণমূলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ ছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার সেই দলীয় অসন্তোষই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের সঙ্গে মিশে এক ভয়াবহ আকার ধারণ করে, যার ফলে ধুয়ে মুছে গেল ‘বেচা-রাজ’। বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, “সিঙ্গুর ও হরিপালে পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনরোষ কাজ করেছে। আন্দোলনের ভূমি সিঙ্গুরে কৃষি ও শিল্প— দুই পক্ষকেই উপেক্ষা করেছেন বেচারামবাবুরা।”
পরাজয়ের পর বেচারাম মান্না অবশ্য নির্বাচন কমিশনের ওপর দায় চাপিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কমিশন পরিকল্পনামাফিক বিজেপিকে সুবিধা করে দিয়েছে। তবে সিঙ্গুরে তাঁর হারের খবর চাউর হতেই বিজেপির জয়োল্লাসে পা মেলাতে দেখা গিয়েছে তৃণমূলেরই একাংশকে। দলের স্থানীয় কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, বেচারামবাবুর গোষ্ঠী রাজনীতি এবং পরিবারতন্ত্রের মোহ কর্মীদের একাংশকে বিজেপিমুখী করে তুলেছিল।
সিঙ্গুরের এই পতন তৃণমূলের জন্য শুধুমাত্র একটি আসনের হার নয়, বরং একটি ‘অহংকারের’ পতনের প্রতীক হয়ে রইল। যে সিঙ্গুর একদা মমতার ক্ষমতায় আসার সোপান ছিল, সেই মাটিতেই হিন্দু ভোটের একত্রীকরণ এবং পরিবারতন্ত্র বিরোধী হাওয়া কার্যত সলিল সমাধি ঘটাল বিদায়ী মন্ত্রীর।