নিউজ ডেস্ক: ভিন্ রাজ্য থেকে এসে কলকাতায় ছিনতাই বা জাতীয় সড়কের উপর লুটপাট চালিয়ে গা ঢাকা দিচ্ছিল তারা। এবার মহারাষ্ট্রের কুখ্যাত ‘বাবারিয়া গ্যাং’-এর সেই দাপট রুখতে বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশ। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের ঢুলে সংশোধনাগার থেকে এই গ্যাংয়ের দুই সক্রিয় সদস্যকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে এসেছে লালবাজারের গোয়েন্দারা। ধৃতদের নাম নীতীন কিষাণ কুমার ও সঞ্জু শর্মা।
তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য: গোয়েন্দা সূত্রে খবর, গত কয়েক মাসে কলকাতায় সাতটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। সিসিটিভি ফুটেজ এবং বাইকের নম্বর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিটি ক্ষেত্রে চুরি করা বাইক ব্যবহার করছিল দুষ্কৃতীরা এবং অপারেশন শেষে সেই বাইক ফেলে রেখেই চম্পট দিচ্ছিল তারা। ছবিগুলো মহারাষ্ট্র পুলিশের কাছে পাঠানো হলে তারা নীতীন ও সঞ্জুকে চিহ্নিত করে, যারা ইতিপূর্বেই সেখানে ধরা পড়ে সংশোধনাগারে বন্দি ছিল।
কেমন ছিল বাবারিয়া গ্যাং-এর ‘অপারেশন ব্লু-প্রিন্ট’?
-
ছদ্মবেশ: এই গ্যাংয়ের সদস্যরা উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান ও মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। তারা যে কোনও রাজ্যে গিয়ে শ্রমিকের ছদ্মবেশে অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে ডেরা বাঁধে।
-
টার্গেট: হাইওয়ের উপর লুটপাটে এদের দক্ষতা সর্বাধিক। শহরতলি বা শহরের বাইরে ডেরা বাঁধলেও পরিকল্পনা মাফিক শহরের জনবহুল এলাকায় রেকি করে এরা অপারেশন চালায়।
-
মারণাস্ত্র: এদের হাতে থাকে লোহার রড। কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সরাসরি তাঁর মাথা লক্ষ্য করেই আঘাত করা হয়।
-
চুরি যাওয়া বাইক: ডেরা বাঁধার পর পার্কিং লট থেকে বাইক চুরি করে সেই নম্বর প্লেট ব্যবহার করেই চলে ছিনতাই।
ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, কলকাতা ছাড়াও বরানগর এবং হাওড়া জেলাতেও একাধিক লুটপাট চালিয়েছে তারা। এখানে কয়েক মাস ‘অপারেশন’ চালিয়ে তারা ফের অন্য রাজ্যে পাড়ি দিত। এই রাজ্যে তাদের আর কতজন শাগরেদ ছড়িয়ে রয়েছে, এখন সেই হদিশ পেতেই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।