নিউজ ডেস্ক: আইপ্যাক (I-PAC) মামলায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির আইনি এক্তিয়ার নিয়ে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কপিল সিবাল। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করা বা সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো ইডির পক্ষে সম্পূর্ণ সংবিধান-বিরোধী। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে এদিন শুনানির সময় ইডি আধিকারিক রবীন বনসলের দায়ের করা মামলার যৌক্তিকতা নিয়েও সরব হন সিবাল।
কপিল সিবাল আদালতে সওয়াল করেন যে, ইডি আধিকারিক রবীন বনসল নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, অথচ তিনি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছেন— যা একেবারেই যুক্তিহীন। পালটা জবাবে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র প্রশ্ন তোলেন, “স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী যদি ইডির কাজে বাধা দিতে আসেন, তবে তারা কোথায় যাবে? রাজ্য পুলিশের কাছে কি তদন্তের আর্জি জানাবে?” বিচারপতি আরও ইঙ্গিত দেন যে, রবীন বনসল সশরীরে না থাকলেও ‘শ্যাডো অফিসার’ হিসেবে তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি করা হবে।
রাজ্যের হয়ে এদিন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারের পক্ষে অভিষেক মনু সিংভিও জোরালো সওয়াল করেন। তাঁরা বিভিন্ন আইনি রায়ের উদাহরণ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ইডির এই আবেদন বাতিলের দাবি জানান। উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি কলকাতায় আইপ্যাকের স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রতীক জৈনের অফিসে কয়লা পাচার মামলার তল্লাশিতে গিয়ে ইডি আধিকারিকরা বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ। ইডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেখানে গিয়ে তদন্তে হস্তক্ষেপ করেছিলেন এবং বাজেয়াপ্ত নথি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৪ এপ্রিল।