নিউজ ডেস্ক: ছুটির দুপুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার সন্তোষপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকা। শনিবার দুপুরে স্টেশনের ধারের ‘ষোলো বিঘা’ বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে ভস্মীভূত হয়ে গেল শতাধিক ঝুপড়ি। আগুনের লেলিহান শিখায় গলে গেল রেলের ওভারহেড হাইটেনশন তার। এর জেরে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা স্তব্ধ থাকল শিয়ালদহ-বজবজ শাখার ট্রেন চলাচল। সর্বস্ব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নীচে কয়েকশো পরিবার।
ভস্মীভূত বস্তি, গলে গেল রেলের তার: শনিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ সন্তোষপুর স্টেশন থেকে মাত্র ২০০ মিটারের মধ্যে থাকা ওই ঝুপড়িগুলিতে আগুন লাগে। স্থানীয়দের দাবি, আগুনের তীব্রতায় একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। আগুনের তাপে রেলের আপ ও ডাউন লাইনের ওভারহেড তার গলে ঝুলে পড়ে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি জানান, যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ দুর্ভোগের পর ট্রেন চলাচল শুরু: আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর শুরু হয় রেলের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ। রাত ৮টা পর্যন্ত তার মেরামতির কাজ চলার পর শুরু হয় ‘সেফ্টি চেক’। প্রায় ৮ ঘণ্টা পর রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বজবজ থেকে শিয়ালদহের উদ্দেশ্যে প্রথম ট্রেনটি রওনা দেয়। রাত পৌনে ১১টা নাগাদ আপ ও ডাউন উভয় লাইনেই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে রেল সূত্রে খবর। দীর্ঘ সময় ট্রেন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন দক্ষিণ শাখার হাজার হাজার নিত্যযাত্রী।
দমকলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও প্রশাসনিক উদাসীনতা: এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঢিল ছোড়া দূরত্বে রবীন্দ্রনগর দমকল কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও ইঞ্জিন পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়েছে। মাত্র ৪টি ইঞ্জিন দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ চলায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এর আগেও একাধিকবার এই বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটলেও কেন স্থায়ী সমাধান করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ভোটের মুখে নথি হারিয়ে দিশাহারা পরিবার: আগামী ২৯ এপ্রিল মহেশতলা বিধানসভায় ভোট। ঠিক তার চারদিন আগে ঘরবাড়ি হারানোর পাশাপাশি নিজেদের পরিচয়পত্র ও ভোটার কার্ড হারিয়ে দিশাহারা বস্তিবাসী। বর্তমানে দেশজুড়ে চলা SIR-এর (নিবন্ধীকরণ) আবহে নিজেদের সব নথি পুড়ে যাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ এখানকার মানুষগুলোর। ভোট দেওয়া তো দূর, আগামী দিনগুলো কোথায় কাটবে— সেই চিন্তায় এখন দিশাহারা কয়েকশো পরিবার।