নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ দুই দশকের আইনি লড়াইয়ে বড়সড় মোড়। ২০০২ সালের সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতি হত্যা মামলায় (Journalist Murder Case) বেকসুর খালাস (Acquitted) পেলেন ‘ডেরা সচ্চা সৌদা’ প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিং। শনিবার পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট রাম রহিমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা রদ করে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৯ সালে পঞ্চকুলার বিশেষ সিবিআই আদালত তাঁকে এই খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
প্রধান বিচারপতি শীল নাগুর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ এদিন এই রায় ঘোষণা করে। নিম্ন আদালতের সাজাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাম রহিমের করা আবেদনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে রাম রহিম রেহাই পেলেও, এই মামলার অন্য তিন অভিযুক্তের সাজা বহাল রেখেছে আদালত। ২০০২ সালে হরিয়ানার সিরসায় নিজের বাড়ির সামনেই গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিলেন সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতি। ডেরা সদর দপ্তরে সাধ্বীদের ওপর যৌন নির্যাতনের খবর নিজের পত্রিকা ‘পুরা সচ’-এ প্রকাশ করার জেরেই তাঁকে প্রাণ দিতে হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ২০০৬ সালে মামলার ভার নিয়েছিল সিবিআই।
হাইকোর্টের এই রায়ে স্বভাবতই ভেঙে পড়েছেন নিহতের ছেলে অংশুল ছত্রপতি। এই রায়কে পরিবারের জন্য এক বড় ‘ধাক্কা’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। অংশুল সাফ জানিয়েছেন, লড়াই এখনই শেষ হচ্ছে না, ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন। সিবিআই-ও এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে আবেদন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে খুনের মামলা থেকে রেহাই পেলেও রাম রহিমের জেলমুক্তি এখনই হচ্ছে না। ২০১৭ সালে দুই সাধ্বীকে ধর্ষণের দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন তিনি। বর্তমানে তিনি রোহতকের সুনারিয়া জেলে বন্দি। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে ডেরা ম্যানেজার রঞ্জিত সিং হত্যা মামলা থেকেও তাঁকে প্রমাণের অভাবে খালাস করেছিল হাইকোর্ট। আইনি লড়াইয়ে একটার পর একটা বড় স্বস্তি মিললেও, ধর্ষণের দায়ে এখনই চার দেওয়ালের বাইরে আসা হচ্ছে না ডেরা প্রধানের।