নিউজ ডেস্ক: খোদ পুলিশ সুপারের দপ্তরের সামনেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী সাগরদিঘিতে প্যান্টে প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার হলো একটি কচ্ছপ। দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার ফলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে কচ্ছপটির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। রবিবার বিকেলে এই ঘটনা জানাজানি হতেই কোচবিহারের হেরিটেজ জলাশয়টির রক্ষণাবেক্ষণ এবং সচেতনতা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ: রবিবার বিকেলে সাগরদিঘির দক্ষিণ দিকে পুলিশ সুপারের দপ্তরের উল্টো দিকের ঘাটে একটি কচ্ছপকে ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কচ্ছপটিকে উদ্ধার করেন। তাঁরা দেখেন, কচ্ছপটির মাথা একটি পরিত্যক্ত প্যান্টের মধ্যে আটকে রয়েছে। মৃত কচ্ছপটিকে উদ্ধার করে দেবীবাড়ি এলাকায় বন দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আগের ঘটনা ও প্রশাসনের নির্দেশিকা: সাগরদিঘির জলে কাপড় কাচা, স্নান করা বা সাঁতার কাটা প্রশাসনের তরফে কড়াভাবে নিষিদ্ধ। দিঘির চারপাশে এই সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশিকা ও জরিমানার বোর্ডও লাগানো রয়েছে। তাসত্ত্বেও জলে এই ধরনের পরিত্যক্ত জামা-কাপড় আসছে কোথা থেকে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য অর্ধেন্দু বণিক জানান, গত এক বছরে সাগরদিঘির বিভিন্ন ঘাট থেকে এভাবেই কাপড়ে প্যাঁচানো মোট চারটি মৃত কচ্ছপ উদ্ধার হয়েছে। মৃত কচ্ছপগুলি সবই ছিল অল্পবয়সি।
বন দপ্তরের প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন দপ্তরের কোচবিহারের ডিএফও অসিতাভ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘এভাবে কচ্ছপের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। সাগরদিঘিতে যাতে কেউ পরিত্যক্ত জামা-কাপড় না ফেলেন, সে বিষয়ে কড়া নজরদারি চালানোর জন্য আমরা পুরসভা ও জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাব।’’ হেরিটেজ শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।