নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে ঘাসফুল শিবিরকে হঠিয়ে শেষ হাসি হাসল বিজেপি। টানটান উত্তেজনার পর গণনা শেষে ১৭০০-র বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী অগ্নিশ্বর নস্কর। তবে এই জয় ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে গণনা কেন্দ্রের ধুন্ধুমার পরিস্থিতি এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে উপস্থিত হয়ে নজিরবিহীন হেনস্থার মুখে পড়ার ঘটনা।

গণনা কেন্দ্র সূত্রে খবর, সকাল থেকে দশম রাউন্ড পর্যন্ত তৃণমূল প্রার্থী সোমশ্রী বেতাল এগিয়ে থাকলেও বিকেলের পর থেকেই পাশা উল্টে যায়। এগিয়ে যান অগ্নিশ্বর। অভিযোগ, সেই সময় গণনা কক্ষের ভেতরে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। বিজেপি কর্মীরা অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে তাঁদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছিল, এবার তার বদলা নেওয়া হবে। উত্তেজনার জেরে তৃণমূল প্রার্থী বেরিয়ে আসেন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আলিপুরের মাল্টিপারপাস গভর্নমেন্ট গার্লস হাইস্কুলের গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু গণনা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে ভেতরে ঢুকলেন, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে নালিশ জানায় বিজেপি। কমিশনের নির্দেশে পুলিশ আধিকারিকরা অভিষেককে বেরিয়ে যেতে বলেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার সময় চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি এজেন্ট ও সমর্থকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লোহার গেট আটকে দিলেও বাইরে লাগাতার বিক্ষোভ চলতে থাকে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে অভিষেক বলেন, “এটাই বিজেপির সংস্কৃতি।” তবে এর আগে দেওয়া তাঁর ‘বিজয় মিছিল ও ডিজে বাজানো’র হুঙ্কার এবং তৃণমূলের এই অভাবনীয় হার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। আমতা আমতা করে কোনোমতে পুলিশি পাহারায় এলাকা ছাড়েন তিনি। বিজেপির দাবি, দাদাগিরি করতে এসে আজ যোগ্য জবাব পেয়েছেন তৃণমূল সাংসদ।

Share on Social Media