নিউজ ডেস্ক: ভোটের আবহে তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম। মঙ্গলবার সাতসাকলে মধ্যমগ্রাম পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সুশান্ত রায়ের বাড়িতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের আঙুল স্থানীয় বিজেপি কর্মী লোকনাথ দাসের দিকে। কাউন্সিলারের স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত লোকনাথকে গ্রেফতার করেছে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে কাউন্সিলার সুশান্ত রায় যখন দোতলার ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন, তখন তাঁর স্ত্রী রূপালী দেবী বাড়ির বাইরে কাজ করছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় লোকনাথ দাস হাতে একটি বড় ধারালো দা নিয়ে বাড়ির সামনে হাজির হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। রূপালী দেবী প্রতিবাদ করতেই লোকনাথ তাঁকে লক্ষ্য করে দা নিয়ে তেড়ে যান বলে অভিযোগ। কোনওরকমে বাড়ির ভিতরে ঢুকে আত্মরক্ষা করেন তিনি।
বিবাদের নেপথ্যে ‘দেওয়াল দখল’:
দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সুশান্ত রায় ও লোকনাথ দাসের মধ্যে বিরোধ চলছিল। নির্বাচন ঘোষণার পর সেই বিবাদ আরও চরম আকার নেয়। মূলত কোন দলের দেওয়াল লিখন কোথায় হবে, তা নিয়েই দুই নেতার মধ্যে দফায় দফায় বচসা ও হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই রেষারেষির জেরেই মঙ্গলবার এই প্রাণঘাতী হামলার ছক বলে মনে করছে পুলিশ।
শাসক-বিরোধী চাপানউতোর:
-
তৃণমূলের বয়ান: কাউন্সিলার সুশান্ত রায় বলেন, “ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে এই সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। আমার স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বিজেপির এই গুন্ডামির কাছে আমরা মাথা নত করব না।”
-
বিজেপির পাল্টা দাবি: বিজেপি নেতা তাপস মিত্র অবশ্য এই ঘটনায় রাজনৈতিক যোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “পুরো বিষয়টিতে তৃণমূল রাজনীতির রঙ চড়াচ্ছে। কাউন্সিলারের পক্ষ থেকেও কোনও প্ররোচনা থাকতে পারে। সবটা খতিয়ে দেখা দরকার।”
থমথমে এলাকা:
বিকেলে সুশান্তবাবু থানায় খুনের চেষ্টার লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরই অভিযানে নামে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক নেতাদের এই ব্যক্তিগত সংঘাত পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিচ্ছে। ধৃত লোকনাথকে জেরা করে এই ঘটনার নেপথ্যে আর কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।