নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তির ছোঁয়ায় জীবন এখন হাতের মুঠোয়। পড়াশোনা থেকে বিনোদন, কিংবা ব্যাংকিং— সব কাজই এখন স্মার্টফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তবে এই অতি-নির্ভরতাই অনেক সময় ডেকে আনতে পারে চরম বিপদ। বিশেষ করে তরুণী ও পড়ুয়ারা প্রায়শই সাইবার অপরাধীদের সহজ নিশানায় পরিণত হন। আপনার ব্যক্তিগত ছবি, মেসেজ বা গোপন তথ্য সুরক্ষিত রাখতে স্মার্টফোনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ডিজিটাল জমানায় নিজেকে ‘সেফ’ রাখতে নজর দিন এই ৫টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস-এ।
১. অ্যাপ পারমিশন নিয়ে সাবধানতা
প্লে-স্টোর বা অ্যাপ-স্টোর থেকে কোনও অ্যাপ ইনস্টল করার সময় আমরা না দেখেই সব ‘পারমিশন’ দিয়ে দিই। মনে রাখবেন, একটি সাধারণ টর্চ অ্যাপ বা গেম অ্যাপের কখনওই আপনার কন্টাক্ট লিস্ট বা গ্যালারি দেখার প্রয়োজন নেই। কোনও অ্যাপ যদি অপ্রাসঙ্গিক অনুমতি চায়, তবে বুঝবেন ডাল মে কুছ কালা হ্যায়! ব্যবহারের পর অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ডিলিট করে দেওয়া এবং সেটিংস থেকে ‘পারমিশন ম্যানেজার’ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
২. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) সক্রিয় করুন
কেবল পাসওয়ার্ড দিয়ে এখন আর অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা জিমেইলের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ চালু রাখুন। এতে পাসওয়ার্ড কেউ জেনে ফেললেও আপনার ফোনের ওটিপি (OTP) ছাড়া কেউ লগ-ইন করতে পারবে না। এটি আপনার ডিজিটাল প্রোফাইলের চারপাশে একটি লোহার বর্মের মতো কাজ করে।
৩. পাবলিক ওয়াই-ফাই (Public Wi-Fi) ব্যবহারে রাশ
রেল স্টেশন, শপিং মল বা ক্যাফেতে পাওয়া ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে আমরা সবাই ভালোবাসি। কিন্তু এই ‘ফ্রি’ পরিষেবাই হতে পারে আপনার তথ্য চুরির গোপন রাস্তা। পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে কখনওই ব্যাংকিং লেনদেন বা কোনও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করবেন না। একান্তই প্রয়োজন হলে ভালো মানের ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
৪. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও বায়োমেট্রিক সুরক্ষা
‘12345’ বা নিজের নাম-জন্মদিন দিয়ে পাসওয়ার্ড রাখার অভ্যাস ত্যাগ করুন। পাসওয়ার্ডে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং স্পেশাল ক্যারেক্টার (#, @, $) মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এছাড়া স্মার্টফোনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস-লক সুরক্ষা সবসময় চালু রাখুন। ফোন চুরি হয়ে গেলেও যাতে কেউ আপনার ব্যক্তিগত ডাটা না দেখতে পারে, তা সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৫. অচেনা লিঙ্ক ও ফিশিং থেকে দূরত্ব
‘লটারি জিতেছেন’ বা ‘সহজে ঋণ পান’— এই ধরণের লোভনীয় মেসেজ বা হোয়াটসঅ্যাপে আসা অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। এই লিঙ্কগুলি সাধারণত ফিশিং অ্যাটাকের অংশ হয়, যা আপনার ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অপরাধীদের হাতে তুলে দিতে পারে। কোনও তথ্য শেয়ার করার আগে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের সত্যতা যাচাই করে নিন।