নিউজ ডেস্ক: বান্ধবীর বিশ্বাসকে পুঁজি করে তাঁরই আধার ও প্যান কার্ড হাতিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্র চালাচ্ছিল প্রেমিক! খাস কলকাতায় এক অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারকে টানা ১২০ ঘণ্টা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে ৩ কোটি ১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অশোকনগর থেকে অর্পণ সিকদার নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করল লালবাজারের সাইবার থানা। এই ঘটনায় অর্পণের পাশাপাশি আবির শেখ ও মহম্মদ আমজাদ নামে আরও দুই শাগরেদকেও জালে তুলেছেন গোয়েন্দারা। ধৃতদের জেরা করে এই জালিয়াতির শিকড় মালয়েশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
বুধবার লালবাজারে এক সাংবাদিক বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দাপ্রধান রূপেশ কুমার জানান, গত বছরের অক্টোবরে শহরের এক প্রবীণ ইঞ্জিনিয়ার বিধান ঘোষদস্তিদার এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। ৫ অক্টোবর একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে তাঁকে জানানো হয়, মুম্বই বিমানবন্দরে তাঁর নামে আসা একটি পার্সেল আটক করা হয়েছে, যাতে বেআইনি মাদক রয়েছে। এরপর ১৪ অক্টোবর ‘সিবিআই আধিকারিক’ অমিত কুমার সেজে তাঁকে ভিডিও কল করে জানানো হয়, তিনি এখন থেকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এ রয়েছেন। ভুয়ো আইডি কার্ড দেখিয়ে ভয় দেখানো হয় যে, ভিডিও নজরদারি এড়িয়ে গেলেই সশরীরে বাড়িতে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।
টানা পাঁচ দিন অর্থাৎ ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ওই বৃদ্ধকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখে প্রতারকরা। জেলযাত্রার ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকা ইঞ্জিনিয়ার নিজের সারাজীবনের পুঁজি, ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙিয়ে দফায় দফায় ৩ কোটি টাকা তুলে দেন জালিয়াতি চক্রের হাতে। সর্বস্ব খুইয়ে পরে সম্বিৎ ফিরলে তিনি লালবাজারের সাইবার থানার দ্বারস্থ হন। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা প্রথমে আমহার্স্ট স্ট্রিট থেকে মহম্মদ আমজাদকে গ্রেপ্তার করেন, যার কাছ থেকে ১২টি সিমবক্স ও ২ হাজার সিম কার্ড উদ্ধার হয়।
আমজাদকে জেরা করেই সূত্র মেলে অশোকনগরের অর্পণ সিকদারের। দেখা যায়, অর্পণ তার বান্ধবীর নথিপত্র ব্যবহার করে একটি ‘মিউল’ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছিল, যেখানেই প্রতারণার ওই বিপুল টাকা জমা পড়ত। বান্ধবীর বাড়িতেই দিব্যি ঘরজামাই সেজে থেকে এই আন্তর্জাতিক কারবার চালাচ্ছিল সে। অর্পণের ডেরা থেকেও ৬টি সিমবক্স ও ১২০টি সিমকার্ড উদ্ধার হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে বিদেশের আর কার কার যোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল।