নিউজ ডেস্ক: স্কুল ছুটির পর পেরিয়ে গিয়েছিল অনেকটা সময়। কিন্তু বাড়ির মেয়ে বাড়ি ফেরেনি। বুধবার দুপুরের এই ঘটনার রেশ ধরে কলকাতার শতাব্দী প্রাচীন আর্যকন্যা স্কুলের নবম শ্রেণির চার ছাত্রীর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল বিধান সরণি এলাকায়। অবশেষে পুলিশের তৎপরতায় ১২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস তল্লাশির পর আসানসোল থেকে উদ্ধার করা হলো ওই চার নাবালিকাকে।
গত ৮ এপ্রিল ওই চার ছাত্রী আর পাঁচটা দিনের মতো স্কুলেই গিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তারা বাড়ি না ফেরায় আতঙ্কিত অভিভাবকরা আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার দ্বারস্থ হন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে তড়িঘড়ি অপহরণের মামলা রুজু করে তদন্তে নামে ওসি শুভদীপ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল। হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, চার ছাত্রী হাওড়া স্টেশনের শৌচাগারে স্কুল ড্রেস বদলে সাধারণ পোশাক পরে আসানসোলগামী ট্রেনের দিকে রওনা দিয়েছে।
তদন্তে নেমে কিশোরীদের সহপাঠীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। জানা যায়, সম্প্রতি বাড়িতে না জানিয়ে কলকাতার একটি হুক্কা বারে যাওয়ার কারণে পরিবারের কাছে বকাঝকা শুনতে হয়েছিল ওই চার ছাত্রীকে। সেই অভিমানেই কি তারা ঘর ছেড়েছিল? তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁদের মধ্যে একজনের সঙ্গে আসানসোলের এক ১৮ বছর বয়সী যুবকের ইনস্টাগ্রামে পরিচয় হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই বুধবার রাতে পুলিশের একটি দল আসানসোলে পৌঁছয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতে আসানসোলে নাকা চেকিং চলাকালীন এক বাইক আরোহী যুবক দুর্ঘটনায় জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই ওই চার ছাত্রীর খোঁজ মেলে। জানা যায়, রাতভর আসানসোলের একাধিক হোটেলে ঘর ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করলেও নাবালিকা হওয়ায় কেউ তাঁদের থাকতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত রাত আড়াইটে নাগাদ আসানসোল স্টেশনের কাছ থেকেই তাঁদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আপাতত চার ছাত্রীকে একটি হোমে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।