নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় চায়ের বিশ্বজোড়া সুনাম ধরে রাখতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিল টি বোর্ড। বিদেশ থেকে আমদানি করা যে কোনও চায়ের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এখন থেকে বাধ্যতামূলক। আগামী ১ মে থেকে কার্যকর হতে চলা এই নতুন নিয়মে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, টি বোর্ড এবং ‘এফএসএসএআই’ (FSSAI)-এর নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হলেই কেবল সেই চা ভারতের বাজারে বিক্রি বা পুনঃরপ্তানির অনুমতি (NOC) পাবে। পরীক্ষায় গুণমান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সেই চা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে।
প্রতি বছর ভিয়েতনাম, ইরান, কেনিয়া, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার মতো দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ চা ভারতে আসে। পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় ৩৯ মিলিয়ন কেজি চা আমদানি হয়েছে। অভিযোগ ওঠে, এই আমদানিকৃত নিম্নমানের অনেক চা অনেক সময় ভারতীয় চায়ের নামে বিদেশের বাজারে চলে যায়, যা দেশের চায়ের গরিমা ক্ষুণ্ণ করে। এই জালিয়াতি রুখতেই একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) তৈরি করেছে বোর্ড।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ মে থেকে প্রত্যেক আমদানিকারককে টি কাউন্সিলের পোর্টালে আগাম তথ্য দিতে হবে। চা বন্দরে পৌঁছানোর পর ৫০০ গ্রাম করে দু’টি নমুনা সংগ্রহ করবেন আধিকারিকরা। ল্যাবরেটরিতে ১৪ দিনের মধ্যে পরীক্ষার ফল জানানো হবে। পরীক্ষায় পাশ করলেই মিলবে ‘ইমপোর্ট ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’। টি বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে উত্তরবঙ্গের চা মহল। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিস্টা)-র সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে দেশীয় চায়ের উৎকর্ষ ও সুনাম দুইই বজায় থাকবে।