নিউজ ডেস্ক: চড়া সুদের কারবার আর তার থেকে জন্ম নেওয়া আক্রোশই শেষ পর্যন্ত প্রাণ কাড়ল মহম্মদ জহিরুল ইসলাম সর্দারের (২৫)। আমডাঙার ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহক সেবা কেন্দ্র (সিএসপি) মালিককে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে দুই ভাইকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম ওবিদুল মণ্ডল ও রবিউল মণ্ডল। মূল অভিযুক্ত ওবিদুল খুনের পর মুম্বইয়ের পূর্ব বান্দ্রায় পালিয়ে গা ঢাকা দিলেও বারাসত পুলিশ জেলার বিশেষ দল সেখান থেকেই তাকে পাকড়াও করে। অন্য ভাই রবিউলকে ধরা হয়েছে এলাকা থেকেই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, আমডাঙার সাধনপুরের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল নিজের ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় চড়া সুদে টাকা ধার দিতেন। জহিরুলের দোকানের পাশেই সেলাইয়ের দোকান ছিল ওবিদুলের। মাস ছয়েক আগে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিল সে। কিন্তু জহিরুলের চক্রবৃদ্ধি সুদের ভারে সেই টাকা দ্রুত বেড়ে দাঁড়ায় ৪৪ হাজারেরও বেশি। অভিযোগ, আসল তো দূরের কথা, সুদের টাকা মেটাতে না পারায় ওবিদুলকে চূড়ান্ত অপমান ও হুমকি দিতে শুরু করেন জহিরুল। এমনকি ওবিদুলের বাড়িতে গিয়েও শাসানি দিয়ে আসেন তিনি। সেই আক্রোশ মেটাতেই ভাই রবিউলকে সঙ্গে নিয়ে খুনের ছক কষে ওবিদুল।
গত ২৯ জানুয়ারি রাতে টাকা মেটানোর নাম করে জহিরুলকে একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে ডেকে আনে দুই ভাই। মেলা থেকে কেনা ধারালো ছুরি দিয়ে জহিরুলকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয় এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলার নলি কেটে দেওয়া হয়। খুনের পর তথ্যপ্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে জহিরুলের বাইক দেগঙ্গায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার প্রিয়ব্রত রায় জানিয়েছেন, “চড়া সুদের জেরে তৈরি হওয়া আক্রোশ থেকেই এই খুন। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও উদ্ধার করা হয়েছে।” মৃত জহিরুলের পরিবার অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছে।