নিউজ ডেস্ক: দমদমে যুবক অজয় মণ্ডলের (২৬) রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নাটকীয় মোড়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে আসতেই এই মৃত্যুকে স্রেফ দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ পুলিশ। রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিষক্রিয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে অজয়ের। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে খুনের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে দমদম থানার পুলিশ। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা যুবকের লিভ-ইন পার্টনার প্রিয়াঙ্কা ঘোষকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে রহস্যের জট ছাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
মৃত অজয় মণ্ডল দমদম পুরসভার রামকৃষ্ণগড়ের বাসিন্দা ছিলেন। দমদম বিমানবন্দরে গাড়ি ভাড়া খাটানোর পেশায় যুক্ত ছিলেন তিনি। বছর খানেক আগে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে প্রণয় ঘটিত সম্পর্ক গড়ে উঠলে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবপল্লিতে একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতে শুরু করেন তাঁরা। গত ৪ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন অজয়। প্রিয়াঙ্কা দুই পরিচিতকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যান এবং অজয়ের দাদাকে ফোনে খবর দেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি; চিকিৎসক অজয়কে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছে যুবকের দেহে অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখে সরব হন।
পুলিশি জেরায় প্রিয়াঙ্কা দাবি করেছিলেন, ওই রাতে তাঁরা দু’জনেই মাদক সেবন করেছিলেন এবং অজয় অতিরিক্ত মাদকের ইঞ্জেকশন নেওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ‘বিষক্রিয়া’র উল্লেখ থাকায় ধন্দ তৈরি হয়েছে। মাদক নাকি পরিকল্পিতভাবে বিষ প্রয়োগ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অজয়ের দিদি শ্রাবণী রায়ের আক্ষেপ, “কীভাবে ভাইয়ের মৃত্যু হল, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। এখন শুনছি বিষক্রিয়ার কথা। পুলিশ দোষীদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দিক।” গোটা ঘটনায় এখন প্রিয়াঙ্কার বয়ান ঘিরেই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।