নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই শান্তিনিকেতনের এই হোটেল থেকেই মধুচক্র চালানোর অভিযোগে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ওই একই হোটেল থেকে উদ্ধার হল তাজা বোমা! রবিবার সকালে বোলপুরের প্রান্তিক এলাকার ওই হোটেলটিতে হানা দিয়ে পুলিশ বেশ কয়েকটি বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এভাবে হোটেল থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার গভীর রাতে এসডিপিও রিকি আগরওয়ালের নেতৃত্বে শান্তিনিকেতন এবং পাড়ুই থানার পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে। রবিবার ভোরে প্রান্তিক এলাকার ওই হোটেলটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। হোটেলের একটি নির্দিষ্ট ঘর থেকে সার দিয়ে রাখা বেশ কিছু বোমা উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, হোটেলের আড়ালে ভেতরেই বোমা তৈরি করা হচ্ছিল অথবা কোথাও নাশকতার জন্য এখানে বোমা মজুত করে রাখা হয়েছিল।
পুলিশের একটি সূত্রে দাবি, যে হোটেল থেকে এই বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে, সেটি রাজ্যের এক প্রভাবশালী মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ নেতার। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই অন্তত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ। উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই এই হোটেল থেকেই রাজু মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে মধুচক্র চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বোমা মজুতের ঘটনায় তাঁর কোনও ভূমিকা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রবিবার সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বম্ব স্কোয়াড। বিস্ফোরকগুলি পরীক্ষা করার পর নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে সেগুলি নিষ্ক্রিয় করা হয়। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এভাবে বিপুল পরিমাণ বোমা মজুতের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। এলাকায় বর্তমানে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।
এসডিপিও বলেন, “আমরা নিয়মিত বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাই। রবিবার ভোরে আমাদের কাছে খবর আসে যে এই হোটেলে কিছু বোমা রাখা আছে। সেই মতো দল গঠন করে তল্লাশি চালানো হয় এবং বোমা উদ্ধার হয়। কারা এই বোমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত এবং কেন এখানে মজুত করা হয়েছিল, তার তদন্ত চলছে।”