নিউজ ডেস্ক: দিল্লি ও কলকাতার মেট্রো স্টেশনে সাঁটানো কয়েকটি সন্দেহজনক পোস্টারই ধরিয়ে দিল বড়সড় নাশকতার জাল। দেশজুড়ে লস্কর-ই-তৈবার নাশকতার ছক বানচাল করে মোট আটজন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। ধৃতদের মধ্যে দু’জনকে কলকাতার নিউটাউন থেকে এবং বাকি ছ’জনকে তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর থেকে পাকড়াও করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য এই যে, ধৃত আটজনের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই পুরো মডিউলটি পাকিস্তান থেকে নির্দেশ পেলেও পরিচালিত হচ্ছিল বাংলাদেশ থেকে। ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, দিল্লির লালকেল্লা এবং দেশের বিভিন্ন বড় শহরের জনবহুল ধর্মীয় স্থানগুলিতে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। নিউটাউনের হাতিয়ারা এলাকা থেকে ধরা পড়েছে রবিউল ইসলাম ও উমর ফারুক। এর মধ্যে রবিউল বাংলাদেশি হলেও উমর মালদহের বাসিন্দা। তদন্তে উঠে এসেছে, সাব্বির আহমেদ লোন নামে এক লস্কর জঙ্গি এই মডিউলের মূল মাথা, যে বর্তমানে বাংলাদেশে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। ২০০৭ সালেও নাশকতার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল এই সাব্বির, কিন্তু ২০১৯ সালে ছাড়া পেয়ে সে সীমান্ত পার করে ওপার বাংলায় চলে যায়। সেখান থেকেই সে ভারতে লোক পাঠিয়ে জাল বিস্তার করছিল।
ধৃতদের কাছ থেকে ১৬টি সিম কার্ড ও ৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। দেখা গিয়েছে, ধৃতরা ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকের ছদ্মবেশে গা ঢাকা দিয়েছিল। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ধৃতদের দিল্লি নিয়ে গিয়ে জেরা শুরু করেছে। এই মডিউলের সঙ্গে আর কারা যুক্ত এবং তাদের অর্থের উৎস কী, তা খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।