নিউজ ডেস্ক: ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে এখন চিকিৎসার চেয়েও বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে মৌমাছির ঝাঁক। গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও রোগীর পরিজনদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালাচ্ছে বিষাক্ত মৌমাছির দল। রবিবার সকালেও মৌমাছির হুল ফোটানোর জেরে ১১ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, গত কয়েক দিনে জখমের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩-এ। খোদ এক চিকিৎসককেও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এই অবস্থায় পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বনদপ্তর ও দমকলের দ্বারস্থ হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, মেডিক্যাল কলেজ চত্বর ও সংলগ্ন এলাকার বিশালাকায় শাল গাছগুলিতে মৌমাছির বড় বড় চাক রয়েছে। সেখান থেকেই মৌমাছির দল মাঝেমধ্যেই হানা দিচ্ছে হাসপাতালের ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগের ভেতরে। গত সপ্তাহে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক কুশল মল্লিককে মৌমাছি কামড়ানোর পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হতে হয়। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ওয়ার্ডে ঢুকতে ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয় চা বিক্রেতাদের দাবি, মৌমাছির দল তেড়ে এলে পথচারীরা প্রাণভয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন, দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে দিতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই উপদ্রব চললেও বনদপ্তরের তরফে কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
হাসপাতালের এমএসভিপি অনুরূপ পাখিরা জানিয়েছেন, মৌমাছির আক্রমণে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আহত হওয়ায় চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সোমবার থেকে রোগীর ভিড় বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাসপাতাল চত্বরের প্রায় ৫০ ফুট উঁচুতে থাকা মৌমাছির চাকগুলি দ্রুত সরাতে দমকল ও বনদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আপাতত সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।