নিউজ ডেস্ক: উৎসবের আনন্দ ম্লান করে মুর্শিদাবাদে বিষাদের সুর। চেন্নাই থেকে কাজ সেরে ইদ পালন করতে বাড়ি ফেরার পথে উদ্ধার হলো ২২ বছরের যুবক মহিরুল মল্লিকের অগ্নিদগ্ধ দেহ। মঙ্গলবার বিকেলে সালারের রায়গ্রাম এলাকা থেকে ওই শ্রমিকের ঝলসে যাওয়া দেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিকল্পিত খুনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে নিহতের পরিবার।
মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার যশোহরি চৈতন্যপুর গ্রামের বাসিন্দা মহিরুল কর্মসূত্রে চেন্নাইতে দিনমজুরের কাজ করতেন। পরিবার সূত্রে খবর, বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ইদ কাটাতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি চেন্নাই থেকে ট্রেন ধরেন তিনি। মঙ্গলবারই তাঁর বাড়ি পৌঁছনোর কথা ছিল। কিন্তু বাড়ির সদর দরজার বদলে তাঁর ঠিকানা হলো কান্দি মহকুমা হাসপাতালের মর্গ। মঙ্গলবার বিকেলে রায়গ্রামের একটি জনশূন্য মাঠ থেকে তাঁর দগ্ধ দেহ উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে কান্দি হাসপাতালে পৌঁছে দেহ শনাক্ত করেন পরিজনেরা। মৃতের আত্মীয় আলাই সেখ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ও তো কাজ সেরে খুশি মনে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ পুলিশের কাছ থেকে এই খবর পেলাম। আমাদের নিশ্চিত বিশ্বাস, কেউ ওকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য পুড়িয়ে দিয়েছে।”
ইদের ঠিক আগমুহূর্তে গ্রামের তরতাজা ছেলের এই মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মহিরুলকে কি ট্রেনেই কোনও বিপদে পড়তে হয়েছিল নাকি সালারে নামার পর তাঁর ওপর হামলা হয়, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।