নিউজ ডেস্ক: জমিজট আর প্রশাসনিক টানাপোড়েনের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বীরভূমের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ থমকে যাওয়ায় কার্যত নরক যন্ত্রণার শিকার নিত্যযাত্রীরা। গত মঙ্গলবার বীরভূমে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পর এটি স্পষ্ট যে, অদূর ভবিষ্যতে ফোর লেনের স্বপ্ন এখনই পূরণ হচ্ছে না। তার ওপর বালি ও পাথরের ওভারলোডেড ট্রাকের দৌরাত্ম্যে রাস্তার কঙ্কালসার দশা সাধারণ মানুষের প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুর্শিদাবাদের মোড়গ্রাম থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই জাতীয় সড়ক দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ধমনী। রামপুরহাট, সিউড়ি থেকে বিষ্ণুপুর ও গড়বেতা— রাজ্যের অর্থনীতির চাকা ঘোরে এই পথেই। কিন্তু বর্তমানে রাস্তার বুক চিরে তৈরি হয়েছে বিশালাকার গর্ত। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দাবি, জনশুনানিতে আপত্তি এবং জমি অধিগ্রহণে প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাবেই থমকে রয়েছে আধুনিকীকরণের কাজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার ধ্বংসের মূলে রয়েছে বালি ও পাথরের অবৈধ কারবার। ৫০ টন ভার বহন ক্ষমতার রাস্তায় দৈনিক হাজার হাজার ট্রাক ১০০ টনের বেশি পণ্য নিয়ে যাতায়াত করছে। প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে চলা এই কারবারের ফলে পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে মরণফাঁদ।
সাংসদ শতাব্দী রায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন যে ফোর লেন নিয়ে সমস্যা রয়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতির মতে, সংস্কারের অভাবে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সেতু সংস্কারের কাজ শুরু করার আশ্বাস দিলেও ফোর লেন নিয়ে কোনও দিশা দেখাতে পারেনি। যতক্ষণ না ওভারলোডেড লরির ওপর রাশ টানা হচ্ছে এবং জমিজট কাটছে, ততক্ষণ বীরভূমের মানুষের এই পথযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।