নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে মাটির নিচেই চাপা পড়ে ছিলেন তিনি। লোকমুখে শোনা কাহিনিকে সত্যি করে বিষ্ণুপুরের মল্লেশ্বর মন্দির সংলগ্ন এলাকায় মাটি খুঁড়তেই উদ্ধার হলো এক আস্ত প্রাচীন মন্দির ও বিশালাকার শিবলিঙ্গ। বিষ্ণুপুরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই আবিষ্কারকে ঘিরে যখন পুজো ও উন্মাদনায় মেতেছেন স্থানীয়রা, ঠিক তখনই বাধা হয়ে দাঁড়াল পুরাতত্ত্ব বিভাগ (ASI)। কেন্দ্রীয় সংস্থার নিষেধাজ্ঞার জেরে বর্তমানে থমকে ‘বাবা জলেশ্বর’-এর নিত্যপূজা। সোমবার বিকেলে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় পৌঁছান বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ ও পুরসভার চেয়ারম্যান।
স্থানীয় প্রবীণদের দাবি, ঐতিহাসিক মল্লেশ্বর মন্দিরের বেড়ার ঠিক গায়েই এক সময় অবস্থিত ছিল এই জলেশ্বর মহাদেব মন্দির। কয়েক দশক আগে কোনও কারণে তা ধূলিসাৎ হয়ে মাটির নিচে তলিয়ে যায়। সেই শুনেই রবিবার সকাল থেকে কোদাল-বেলচা নিয়ে নেমে পড়েন এলাকার যুবকরা। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মাটির নিচ থেকে প্রায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয় মন্দির ও বিগ্রহ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমতে শুরু করে এলাকায়।
তবে খুশি বেশি ক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মল্লেশ্বর মন্দিরটি পুরাতত্ত্ব বিভাগের সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় ১০০ মিটারের মধ্যে খোঁড়াখুঁড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে মন্দির কমিটিকে কড়া নোটিশ পাঠায় ASI। এর ফলে দেবতার পরিচর্যা ও জল নিকাশি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিবলিঙ্গটি ফের জলের তলায় চলে গিয়েছে। জলেশ্বর মন্দির কমিটির সম্পাদক চন্দন সাহা বলেন, “আমরা দেবতার পরিচর্যা করতে পারছি না দেখে এলাকার মানুষের মন খারাপ। পুরাতত্ত্ব বিভাগকে মান্যতা দিয়েও আমরা চাই এর একটি বিহিত হোক।”
বিধায়ক তন্ময় ঘোষ জানিয়েছেন, এলাকার মানুষের আবেগ এবং সরকারি নিয়ম— দুইয়ের মধ্যেই সামঞ্জস্য রাখা জরুরি। তিনি বলেন, “পুরাতত্ত্ব বিভাগ আপত্তি জানিয়ে প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে। আমরা মন্দির কমিটির সঙ্গে কথা বলেছি। খুব শীঘ্রই জেলা প্রশাসন, পুরাতত্ত্ব বিভাগ এবং স্থানীয়দের নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করা হবে যাতে বাবা জলেশ্বরের পুজোর একটি স্থায়ী ও আইনি ব্যবস্থা করা যায়।” আপাতত প্রশাসনিক আশ্বাসে কিছুটা শান্ত হয়েছেন মল্লেশ্বর এলাকার বাসিন্দারা।