নিউজ ডেস্ক: সংসারে নিত্য টানাটানি। উপার্জনের নেশায় মোটর ট্রেনিং স্কুলে গাড়ি চালানো শিখতে গিয়েছিলেন সরশুনার এক গৃহবধূ। ভেবেছিলেন, অ্যাপ ক্যাব চালিয়ে নিজেই সংসারের হাল ধরবেন। কিন্তু আয়ের পথ খুঁজতে গিয়েই প্রতারকদের পাতা মরণফাঁদে পা দিলেন তিনি। কলকাতা পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপে পড়ে ন’লক্ষাধিক টাকা খোয়ালেন ওই মহিলা। এই ঘটনায় মোটর ট্রেনিং স্কুলের প্রশিক্ষক ও তাঁর এক সহযোগীর বিরুদ্ধে সরশুনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের শুরুতে। সরশুনা এলাকার একটি মোটর ট্রেনিং সেন্টারে গাড়ি চালানো শিখতে গিয়ে প্রশিক্ষক বিশ্বনাথ সাহার সঙ্গে আলাপ হয় ওই গৃহবধূর। অভিযোগ, প্রশিক্ষণের ফাঁকে সাংসারিক অনটনের কথা শুনেই বিশ্বনাথ তাঁকে টাকার বিনিময়ে পুলিশে চাকরির আশ্বাস দেয়। নিজের ছেলের জন্য একটি সুরাহা খুঁজতে গৃহবধূও সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। এরপর সৌমেন সাহা রায় নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। ওই মহিলা পুলিশকে জানিয়েছেন, সৌমেন নিজেকে লালবাজারের কর্মী এবং বড় কর্তাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দেয়।
সরল বিশ্বাসে ছেলের চাকরির জন্য ধারদেনা করে প্রাথমিকভাবে ৬ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন গৃহবধূ। অভিযোগ, টাকা পাওয়ার পরই টোপ বদলায় সৌমেন। সে জানায়, কনস্টেবলের পদ খালি নেই, তবে আরও ৩ লক্ষ টাকা দিলে সাব-ইন্সপেক্টর পদে চাকরি নিশ্চিত। সেই টাকাও মিটিয়ে দেন মহিলা। শেষে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আরও ৩৬ হাজার টাকা চাওয়া হলে গৃহবধূর খটকা লাগে। এরপর থেকেই অভিযুক্তের ফোন বন্ধ। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে সাউথ-ওয়েস্ট ডিভিশনের ডিসি এবং সরশুনা থানায় অভিযোগ জানান তিনি। লালবাজার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে অভিযুক্তরা এখনও অধরা।