নিউজ ডেস্ক: একদিকে যখন কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’ আর ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক সেই সময়ই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সভামঞ্চের সামনের চত্বর। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে হঠাৎই মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে পৌঁছে যান একদল পার্শ্বশিক্ষক। স্থায়ীকরণ ও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তাঁদের স্লোগান আর আচমকা বিক্ষোভে শুক্রবার বিকেলে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে যায় শাসক শিবির।
বিক্ষোভকারীদের দেখেই মেজাজ হারান মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চ থেকেই সরাসরি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “বিজেপির কথায় এসব করবেন না। রাজনীতি করতে হলে অন্য জায়গায় যান।” এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি। মেজাজ সপ্তমে চড়িয়ে পার্শ্বশিক্ষকদের উদ্দেশে তাঁর পাল্টা পরামর্শ, “এতই যদি ক্ষমতা থাকে, তবে প্রধানমন্ত্রী মোদী বা অমিত শাহর সামনে গিয়ে দেখান।” এর পরেই পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বিক্ষোভকারীদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করেন তিনি।
রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকদের এই লড়াই অবশ্য নতুন নয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ২০০৯ সালে খোদ মমতাই তাঁদের স্থায়ীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর মন্ত্রিসভায় ধাপে ধাপে স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ১৫ বছর অতিক্রান্ত, অথচ কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিকাশ ভবনের সামনেও লাগাতার অবস্থান চালাচ্ছেন তাঁরা।
সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে শিক্ষা দপ্তর থেকে প্রাথমিক পার্শ্বশিক্ষকদের জন্য ২৮ হাজার এবং উচ্চ প্রাথমিকে ৩২ হাজার টাকা বেতনের একটি প্রস্তাব নবান্নে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সেই ফাইল আজও ‘ঠান্ডা ঘরে’ বন্দি। বেতন কাঠামো সংশোধনের পাশাপাশি প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারের একজনের চাকরি ও আর্থিক সাহায্যের দাবিতে অনড় তাঁরা। লোকসভা ভোটের মুখে যখন কেন্দ্রীয় বঞ্চনাকে হাতিয়ার করে পথে নেমেছে তৃণমূল, ঠিক তখনই ঘরের অন্দরের এই অসন্তোষ রাজ্য সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।