নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ় প্রণালী’ দিয়ে তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে ইরান বিধিনিষেধ আরোপ করায় গভীর উদ্বেগে ভারত। এই পরিস্থিতিতে দেশে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি-র (LPG) জোগান স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প পথের সন্ধানে আন্তর্জাতিক স্তরে তৎপরতা শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
সূত্রের খবর, হরমুজ় প্রণালীর উত্তপ্ত পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এবং তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক’-এর (OPEC) সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে। ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই পথ দিয়েই আমদানি করে। বর্তমান সঙ্কটে ভারতের প্রায় ৩৭টি জাহাজ মাঝপথে আটকে থাকায় উদ্বেগ বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি আমেরিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে দিল্লি। পাশাপাশি, কাতার থেকে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা ভারতকে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮ সপ্তাহের জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) মজুত রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখতে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকে ২৪ ঘণ্টার একটি ‘কন্ট্রোল রুম’ চালু করা হয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিমার খরচ ও পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এই উত্তপ্ত আবহে বিদেশি জাহাজে কর্মরত অন্তত তিন ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই কঠিন সময়ে ভারতীয় নাবিকদের দ্রুত সহায়তার জন্য জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করেছে।