নিউজ ডেস্ক: দোল উৎসবের আনন্দ নিমেষেই বদলে গেল বিষাদে। কৃষ্ণনগরের হরনগরে বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর পুকুর থেকে উদ্ধার হল ২০ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র শুভব্রত ঘোষের নিথর দেহ। এটি স্রেফ দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে ঘনীভূত রহস্য। মৃতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শুভব্রতর ১২ জন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার কৃষ্ণনগর আদালত ধৃতদের মধ্যে দু’জনকে পুলিশি হেফাজত এবং বাকি ১০ জনকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র শুভব্রত দোল উপলক্ষে কৃষ্ণনগরের বাঘাডাঙার বাড়িতে এসেছিলেন। বুধবার বন্ধুদের ডাকে সাড়া দিয়ে হরনগরে একটি পুকুরপাড়ে পিকনিক করতে যান তিনি। তারপর থেকেই তাঁর আর খোঁজ মেলেনি। বৃহস্পতিবার জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের ডুবুরিরা দীর্ঘ তল্লাশির পর হরনগর ঘাটের কাছ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করেন। শুভব্রতর পরিবার স্পষ্ট জানিয়েছে, তিনি সাঁতার জানতেন না। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই শুভব্রতকে জলে ডুবিয়ে মারা হয়েছে।
তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, কলকাতার যে কলেজে শুভব্রত পড়তেন, সেখানেই তাঁর বেশ কিছু পুরনো বন্ধুও ভর্তি হয়েছিল। একটি সূত্র মারফত ইঙ্গিত মিলেছে, কলেজেরই এক ছাত্রীকে কেন্দ্র করে শুভব্রতর সঙ্গে তাঁর বন্ধুদের দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। সেই পুরনো আক্রোশ মেটাতেই পিকনিকের অছিলায় তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কৃষ্ণনগর থানার পুলিশ।
শুক্রবার ধৃত ১২ জনকে কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে বিচারক দু’জনকে ২ দিনের পুলিশি হেফাজত এবং বাকি ১০ জনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। কৃষ্ণনগর থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ধৃতদের জেরার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।” কলেজের সেই ছাত্রীর সঙ্গে এই ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না, এখন সেটাই তদন্তের মূল বিষয়।