নিউজ ডেস্ক: অশান্তির বিষবাষ্পে ফের রক্তাক্ত পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ। সীমান্ত সংঘাত আর জঙ্গি দমনের হাজারো চেষ্টার মাঝেই শুক্রবার বিকেলে কেঁপে উঠল উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরানশাহ শহর। এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন অন্তত ১৮ জন। যার মধ্যে ৫টি শিশু রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। নেপথ্যে হাফিজ গুল বাহাদুর গোষ্ঠীর মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন ‘ওস্তাদ-উল-খোরাসান’ (USK)-এর হাত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ মিরানশাহর ব্যস্ত চশমা ব্রিজ এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি চেকপয়েন্ট লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে বিস্ফোরক বোঝাই একটি মোটরসাইকেল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, আত্মঘাতী জঙ্গি সজোরে গাড়ি নিয়ে চেকপয়েন্টে ধাক্কা মারতেই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা তল্লাট। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে নিকটবর্তী বাজারের সাধারণ মানুষও এর কবলে পড়েন। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাদের অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তবে কতজন সেনা সদস্য এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন, তা নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি ইসলামাবাদ।
তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলার মূল পাণ্ডা কুখ্যাত জঙ্গি নেতা হাফিজ গুল বাহাদুর। একসময় জইশ-ই-মহম্মদের ছায়াসঙ্গী এই নেতা মাদ্রাসার আড়ালে প্রশিক্ষণ শিবির চালাত বলে অভিযোগ। সেখান থেকেই আফগানিস্তান ও কাশ্মীরে নাশকতার জন্য জঙ্গি সরবরাহ করা হত। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই এই সীমান্ত এলাকায় নাশকতার মাত্রা কয়েক গুণ বেড়েছে। লাল মসজিদ পরবর্তী সময়ে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যে সশস্ত্র সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছিল, মিরানশাহর এই রক্তক্ষয়ী হামলা তারই এক নৃশংস ধারাবাহিকতা।