নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা এবং প্রোটোকল নিয়ে প্রকাশ্যেই নজিরবিহীন অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শনিবার শিলিগুড়িতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক সাঁওতালি সম্মেলনের প্রস্তুতিতে পদে পদে বাধার সৃষ্টি করেছে সরকার। এমনকি, বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাষ্ট্রপতির দাবি, দেশের সাংবিধানিক প্রধানকে স্বাগত জানাতে কেবল শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের উপস্থিতি কাম্য ছিল না।
রাষ্ট্রপতির অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতালি সম্মেলনের স্থান বদল। প্রথমে এটি বিধাননগরে হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের আপত্তিতে বাগডোগরার কাছে গোঁসাইপুরের এক ছোট জায়গায় তা সরিয়ে নেওয়া হয়। ভিড় বাড়ার যে যুক্তি প্রশাসন দিয়েছিল, তা নিজে খতিয়ে দেখে খারিজ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর আক্ষেপ, “তারা হয়তো ভেবেছিল রাষ্ট্রপতি এসে খালি জায়গায় অনুষ্ঠান করে চলে যাবেন। এতে আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি।” তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কোনও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “মমতা দিদি আমার ছোট বোনের মতো। হয়তো কোনও কারণে তিনি আমার ওপর রাগ করেছেন। তিনি ভালো থাকুন।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য একে ‘সাংবিধানিক কাঠামোর ব্যর্থতা’ বলে তোপ দেগেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এক্স (পুরানো টুইটার) হ্যান্ডেলে সরব হয়ে লিখেছেন, “জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার এই বেদনা ভারতের মানুষের মনে দুঃখের সঞ্চার করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে।”
পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে সংখ্যালঘুদের উল্লেখ না থাকা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আপনারা রাজনীতি করতে জানেন, আমরা জানি না।”