নিউজ ডেস্ক: ডোমকল থেকে ইসলামপুর— মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে ফের চওড়া হচ্ছে ‘ছেলেধরা’ গুজবের কালো ছায়া। শনিবার সাগরপাড়ার এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ইসলামপুরের ভৈরব ব্রিজ এলাকা। স্রেফ সন্দেহের বশে ওই মহিলাকে টেনে-হিঁচড়ে টোল প্লাজার সামনে নিয়ে এসে চলে গণপ্রহার। পুলিশি তৎপরতায় প্রাণরক্ষা হলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সমাজকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই মহিলা ব্যাগ হাতে ভৈরব ব্রিজের নীচে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। তা দেখেই স্থানীয়দের একাংশের মনে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহ দানা বাঁধে। মুহূর্তের মধ্যে জড়ো হয় উত্তেজিত জনতা। থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ওই মহিলাকে নিগ্রহ করা হলেও প্রাথমিক অবস্থায় পুলিশ টের পায়নি। শেষে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে। চিকিৎসকদের দাবি, ওই মহিলা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় নিজের পরিচয় স্পষ্ট করে বলতে পারছিলেন না, যা উন্মত্ত জনতাকে আরও উসকে দেয়।
গুজবের কোপে নিরীহরা: গত এক সপ্তাহে ইসলামপুরের ঈশাননগর এবং ডোমকলের আমিনাবাদ এলাকাতেও একই ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বাদ পড়ছেন না অল্পবয়সীরাও। লালগোলার সিতেশনগর এলাকায় বাচ্চাদের সঙ্গে গল্প করার ‘অপরাধে’ দুই যুবক-যুবতীর চারচাকা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় ক্ষিপ্ত জনতা। পরে জানা যায়, তাঁরা নিছকই সময় কাটাতে শিশুদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসনের বার্তা: ডোমকল গার্লস কলেজের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক প্রিয়ঙ্কর দাসের মতে, গুজব খুব দ্রুত মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং মানুষ যাচাই না করেই তা বিশ্বাস করে ফেলে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “গুজবে কান দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও সন্দেহভাজনকে দেখলে মারধর না করে সরাসরি পুলিশকে জানান।” বারবার ভবঘুরে বা মানসিক ভারসাম্যহীনরা লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় জেলায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।