নিউজ ডেস্ক: উৎসবের আনন্দ নিমেষেই বদলে গেল বিষাদে। উত্তরবঙ্গের দীর্ঘতম জয়ী সেতুতে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক হোমগার্ড এবং হলদিবাড়ির এক যুবক। শনিবার ভোরের এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে কোচবিহারের হলদিবাড়ি ও চ্যাংরাবান্ধা এলাকায়। মৃতদের নাম হামিদুল হক এবং রবি সরকার। ঘাতক ডাম্পারটি ধাক্কা মেরে চম্পট দিয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।
স্থানীয় সূত্রে খবর, হলদিবাড়ি ব্লকের কাশিয়াবাড়ির বাসিন্দা রবি সরকার চ্যাংরাবান্ধায় শ্বশুরবাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে নিজের বাইকে চড়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। পথেই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় চ্যাংরাবান্ধা পানিশালার বাসিন্দা হামিদুল হকের। হামিদুল পেশায় হোমগার্ড, হলদিবাড়ি থানায় ডিউটিতে যোগ দেওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন তিনি। পরিচিত হওয়ায় রবির বাইকেই লিফট নিয়েছিলেন হামিদুল। কিন্তু জয়ী সেতু পার হওয়ার আগেই নেমে এল বিপর্যয়।
শনিবার সকালে সেতুর মাঝামাঝি এলাকায় পথচারীরা দু’জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পাশে দুমড়ে-মুচড়ে পড়েছিল বাইকটি। স্থানীয়দের চিৎকার ও তৎপরতায় মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অনুমান, কুয়াশা বা ভোরের আবছায়ায় দ্রুতগতির কোনও অজ্ঞাতপরিচয় ডাম্পার পেছন থেকে বাইকটিকে সজোরে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। ঘাতক গাড়িটিকে চিহ্নিত করতে সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।