নিউজ ডেস্ক: লটারির দোকানে টাঙানো ফলাফলের কাগজের দিকে তাকিয়ে কিছু ক্ষণের জন্য মনে হয়েছিল চোখের ভুল। বার বার টিকিটের নম্বর মিলিয়ে দেখলেন। না, ভুল নয়— ১ কোটি টাকার বিজেতা তিনিই! মাত্র ৩৫ টাকার লটারির টিকিট কেটে এক রাতের মধ্যে জীবন বদলে গেল নবগ্রামের চা বিক্রেতা সুশান্ত দাসের। অভাবের সংসারে এখন ‘কোটিপতি’ তকমা নিয়ে রূপকথার নায়ক বছর সাঁইত্রিশের এই যুবক।
মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম ব্লকের আয়রা মোড় এলাকায় সুশান্তর এক চিলতে চায়ের দোকান। বৃদ্ধা মা, স্ত্রী আর দুই সন্তানকে নিয়ে অতি কষ্টে দিন কাটত তাঁর। হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যা উপার্জন হতো, তাতে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। শখের বশেই মাঝেমধ্যে লটারির টিকিট কাটতেন সুশান্ত। শনিবার সকালেও দোকান থেকে লটারি কিনেছিলেন। আর সেই এক টুকরো কাগজই যে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি।
দুপুর গড়াতেই এলাকায় রাষ্ট্র হয়ে যায় যে, সুশান্তই পেয়েছেন প্রথম পুরস্কার। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমতে শুরু করে তাঁর চায়ের দোকানের সামনে। প্রতিবেশী থেকে খদ্দের— সকলের মুখেই এক প্রশ্ন, খবরটা কি সত্যি? হাসি মুখে সুশান্ত জানান, “হ্যাঁ, সত্যি।” তবে কোটিপতি হওয়ার খবর পেয়েও মাথা ঠান্ডা রেখেছেন তিনি। নিরাপত্তার খাতিরে এবং আইনি প্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করতে তড়িঘড়ি নবগ্রাম থানায় হাজির হন সুশান্ত।
হঠাৎ পাওয়া এই বিপুল অর্থ দিয়ে কী করবেন সুশান্ত? জবাবে ওই লড়াকু যুবক বলেন, “সংসারের টানাটানি ঘোচাতে কোনও একদিন বড় পুরস্কার পাওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। আজ ভগবান মুখ তুলে চেয়েছেন। ওই টাকা দিয়ে প্রথমে একটা মাথা গোঁজার মতো পাকা বাড়ি তৈরি করতে চাই। আর বাকিটা দুই সন্তানের পড়াশোনা আর ভবিষ্যতের জন্য ব্যাঙ্কে জমিয়ে রাখব।” অন্ধকার কেটে এক চিলতে আলোর দেখা পাওয়ায় খুশির জোয়ার এখন সুশান্তর পরিবারে।