নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ের নির্জনতায় কয়েক মুহূর্তের নিভৃত যাপনই কাল হল দিল্লির এক তরুণীর কাছে। উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালে বেড়াতে গিয়ে এক মত্ত ট্যাক্সি চালকের লালসার হাত থেকে বাঁচতে সারা রাত গভীর জঙ্গলে প্রাণ হাতে নিয়ে লুকিয়ে কাটালেন ৩১ বছর বয়সী ওই পর্যটক। শুক্রবার সকালে জখম অবস্থায় যখন তিনি লোকালয়ে পৌঁছন, তখন তাঁর বয়ান শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পুলিশ আধিকারিকরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবার দেহরাদুন হয়ে কাঠগোদাম পৌঁছন ওই তরুণী। সেখান থেকে নৈনিতাল যাওয়ার জন্য একটি ট্যাক্সি ভাড়া করেছিলেন তিনি। অভিযোগ, রাত দেড়টা নাগাদ পাটোয়া ডাঙ্গার কাছে ট্যাক্সি চালক হঠাৎই মূল রাস্তা ছেড়ে গাড়িটিকে একটি নির্জন জঙ্গলের পথে ঢুকিয়ে দেয়। তরুণী বাধা দিতে গেলে শুরু হয় গালিগালাজ ও মারধর। তাঁর মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে ওই চালক তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। কোনওক্রমে গাড়ি থেকে নেমে অন্ধকারের মধ্যেই গভীর জঙ্গলের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন ওই তরুণী।
সারা রাত হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় আতঙ্কের মধ্যে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকার পর, শুক্রবার সকালে তিনি পাটোয়া ডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছন। স্থানীয়দের সাহায্যে পুলিশে খবর দেওয়া হলে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তে নামে নৈনিতাল পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত চালককে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা।
পুলিশি পদক্ষেপ: নৈনিতালের এসএসপি (SSP) মঞ্জুনাথ টিসি জানিয়েছেন, ধৃতের নাম দীপক সিং বোরা (৩৯)। সে হলদ্বানির বাসিন্দা। ধৃতের কাছ থেকে তরুণীর খোয়ানো মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র অধীনে ধর্ষণ, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ট্যাক্সি মালিকদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, চালক নিয়োগের আগে পরিচয় যাচাই করা বাধ্যতামূলক। এই ঘটনার পর পাহাড়ের পর্যটন নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।