নিউজ ডেস্ক: দোল পূর্ণিমা পেরিয়ে গেলেও বসন্তের আবির এখনও ফিকে হয়নি হাওড়ার ডোমজুড়ে। মাকড়দহের বিখ্যাত মাকড়চণ্ডী মন্দিরে প্রায় দুই শতকের প্রাচীন রীতি মেনে রবিবার সকালে পালিত হল ‘দেবদোল’ বা ‘পঞ্চমদোল’ উৎসব। সূর্যোদয়ের পর থেকেই মন্দির চত্বরে আবিরের রঙে মাতোয়ারা হলেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী। মায়ের চরণে আবির নিবেদন করে সেই আবির মেখেই উৎসবে শামিল হলেন এলাকার বাসিন্দারা।
প্রাচীন রীতি ও চাঁচড় পোড়ানো: মন্দির পরিচালন সমিতির সম্পাদক সমীর চট্টোপাধ্যায় জানান, দোল পূর্ণিমার ঠিক পাঁচ দিনের মাথায় এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। শনিবার রাতে মন্দিরে ‘চাঁচড়’ জ্বালানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল আনুষ্ঠানিকতা। রীতি অনুযায়ী ঢাক-ঢোল বাজিয়ে সাজানো চাঁচড় নিয়ে যাওয়া হয় মন্দিরের পিছনে সরস্বতী নদীর পাড়ে। সেখানে ‘ন্যাড়াপোড়া’ সম্পন্ন হওয়ার পর রাত ১১টা থেকে শুরু হয় নজরকাড়া আতসবাজির প্রদর্শনী, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
ঐতিহ্য ও ইতিহাস: মাকড়চণ্ডী মন্দিরের এই উৎসবের ইতিহাস অত্যন্ত সুপ্রাচীন। মন্দির সূত্রে খবর, ১২২৮ বঙ্গাব্দে মহিয়াড়ির কুণ্ডু চৌধুরী বংশের জমিদাররা মন্দিরটি সংস্কার করেছিলেন। সেই সময় থেকেই মায়ের পায়ে আবির দিয়ে পঞ্চমদোল পালনের প্রথা শুরু হয়। এক সময় মার্টিন রেল যখন চালু ছিল, তখন ট্রেনে চেপে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই মেলা দেখতে আসতেন। সেই ধারা আজও অমলিন।
উৎসবের মেজাজ: দেবদোল উপলক্ষ্যে মন্দির প্রাঙ্গণে বসেছে প্রায় ১৫ দিনের মেলা। গোটা এলাকা সেজে উঠেছে আলোকসজ্জায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তো বটেই, বাইরের জেলা থেকেও বহু মানুষ মাকড়দহে ভিড় জমিয়েছেন। আবির আর উৎসবের হুল্লোড়ে ডোমজুড় এলাকা এদিন কার্যত ছোট শান্তিনিকেতনের রূপ নিয়েছিল।