নিউজ ডেস্ক: ইরানের ইতিহাসে এক নয়া মোড়। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের কয়েক দিনের মধ্যেই সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তাঁর দ্বিতীয় পুত্র, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা হোসেইনি খামেনি। নতুন নেতার নাম ঘোষণার পরই ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের লাগাতার হামলার আবহে মোজতবার এই অভিষেককে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ছে।
সামরিক বাহিনীর আনুগত্য ও ক্ষমতা দখল: বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি (IRGC) ইতিমধ্যেই নতুন নেতার প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের শপথ নিয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মোজতবা খামেনির নির্দেশ মেনে দেশের স্বার্থে তারা নিজেদের উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই তাঁকে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। যদিও ইরানের শাসনব্যবস্থায় আনুষ্ঠানিকভাবে বংশগত ক্ষমতা স্বীকৃত নয়, তবুও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দপ্তর ও আইআরজিসি-র সমর্থনে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন তিনিই।
বিতর্ক ও জীবনপঞ্জি: ১৯৬৯ সালে ইরানের মাশহাদ শহরে জন্ম নেওয়া মোজতবা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৮৭ সালে আইআরজিসি-তে যোগ দিয়ে ইরান-ইরাক যুদ্ধের শেষ পর্যায়েও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন বিতর্কমুক্ত নয়। ২০০৫ সালে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের জয়ের নেপথ্যে মোজতবা কলকাঠি নেড়েছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন সংস্কারপন্থী নেতারা।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা: ইরানের এই পালাবদল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। শুধু তাই নয়, তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে প্রয়োজনে নতুন নেতাকেও ‘টার্গেট’ করা হতে পারে। তেহরান অবশ্য আমেরিকার এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশ সাময়িকভাবে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলের হাতে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় সংস্থা ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’-এর ভোটের মাধ্যমে মোজতবার নাম চূড়ান্ত করা হয়। পিতার মতোই কঠোর ধর্মীয় অবস্থানের জন্য পরিচিত মোজতবা এখন ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের মোকাবিলা কীভাবে করেন, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।