নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনের ‘ফুল বেঞ্চের’ কড়া বার্তার পর এবার তৎপর হল নবান্ন। সোমবার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে কমিশনের ম্যারাথন বৈঠকের পরেই সমস্ত জেলাশাসককে জরুরি তলব করলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল, যেখানে কমিশনের দেওয়া প্রতিটি নির্দেশ এবং জেলাশাসকদের প্রতি সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বার্তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ নেওয়া হয়।
মিডিয়ার খবর কি সত্যি? প্রশ্ন মুখ্যসচিবের: এদিনের বৈঠকে মুখ্যসচিব মূলত জানতে চান, সংবাদমাধ্যমে যে সমস্ত ‘বকুনি’ বা কড়া নির্দেশের খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তা কতটা সত্য। বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সেই মন্তব্য— “আজকের রাতই হোক সেই রাত”, যার মধ্যে দিয়ে আজ রাতের মধ্যেই সমস্ত বেআইনি অস্ত্র, বোমা ও মদ বাজেয়াপ্ত করার ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে জেলাশাসকদের কাছে সরাসরি জানতে চান নন্দিনী চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, অন্তত ১৪ জন জেলাশাসক কমিশন যে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে, তা নিশ্চিত করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা ও বিনীত গোয়েলের জবাব: বৈঠকে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যে অশান্তি এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে কমিশনের অসন্তোষের বিষয়টিও উঠে আসে। এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েল নার্কোটিক আইন (PITNDPS) প্রয়োগ নিয়ে আইনি ব্যাখ্যার চেষ্টা করলেও কমিশন তাতে বিরক্ত প্রকাশ করে বলে জানা গিয়েছে। জেলাশাসকরা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় নামের পাশে ‘বিচারাধীন’ বা অ্যাডজুডিকেশন সংক্রান্ত বিষয়ে জুডিশিয়াল অফিসাররা যতটুকু তথ্য দিচ্ছেন, তার বাইরে কিছু জানা তাঁদের এক্তিয়ারভুক্ত নয়।
কমিশনের হুঁশিয়ারি ও নবান্নের উদ্বেগ: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভোটের আগে কোনও প্রকার আইনশৃঙ্খলা অবনতি সহ্য করা হবে না। কালকের জন্য কোনও কাজ ফেলে না রেখে আজ রাতের মধ্যেই তল্লাশি অভিযান শেষ করতে হবে। কমিশনের এই ‘অ্যাকশন মোড’ দেখে নবান্নের অন্দরেও যে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, মুখ্যসচিবের এই জরুরি তলব তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।