নিউজ ডেস্ক: সাতসকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে একেবারে যমের সঙ্গে সাক্ষাৎ! মঙ্গলবার ভোর ৬টা নাগাদ বাগডোগরা বিমানবন্দর সংলগ্ন চা বাগানের রাস্তায় আচমকাই বেরিয়ে এল একটি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ। রাস্তার ফুটপাতে বাঘটিকে ছোটাছুটি করতে দেখে প্রাতঃভ্রমণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। প্রাণভয়ে এদিক-সেদিক দৌড়তে শুরু করেন বাসিন্দারা। বিমানবন্দরের আশপাশে চা বাগানের ভিতরে চিতাবাঘের দেখা মিললেও, এবার খোদ জনবহুল রাস্তার ধারে তার উপস্থিতিতে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
আতঙ্কিত প্রত্যক্ষদর্শীরা: বিশ্বজিৎ দাস নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “আমরা প্রতিদিনের মতো এদিন ভোরেও সকলে একসঙ্গে হাঁটছিলাম। আচমকা রাস্তার পাশে চিতাবাঘটিকে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখি। ভয়ে আমরা নিরাপদ দূরত্বে সরে যাই। রাস্তার ধারে চা বাগানের নেটের ঘেরা টপকে ওপারে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বাঘটি, কিন্তু বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল।” প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই সময় রাস্তায় প্রায় ৩০ জন লোক ছিলেন। ভয়ে আত্মারাম খাঁচা হওয়ার দশা হলেও, কয়েকজন সাহস করে পকেট থেকে মোবাইল বের করে সেই বিরল দৃশ্য ক্যামেরাবন্দিও করেন।
বন দপ্তরের তৎপরতা: খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন বন বিভাগের বাগডোগরা রেঞ্জের কর্মীরা। রেঞ্জার সোনম ভুটিয়া জানান, “ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি চিতাবাঘ রয়েছে। আগেও তাদের দেখা গিয়েছে। চা বাগানের পাশে যাতে কেউ আবর্জনা ফেলতে না পারে, সেই কারণে বাগান কর্তৃপক্ষ নেট দিয়ে ঘেরা দিয়েছে। সেই নেটের ঘেরা থাকার কারণেই চিতাবাঘটির পারাপার করতে কিছুটা সময় লেগেছিল। পরে সেটি বাগানের গভীর জঙ্গলে ঢুকে যায়।”
নজরদারি ও সতর্কতা: বন দপ্তরের তরফে ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাগডোগরা রেঞ্জ আধিকারিকদের মতে, রাস্তার ধারে খাবারের উচ্ছিষ্ট বা আবর্জনা ফেলার ফলে কুকুর বা অন্য ছোট প্রাণীর খোঁজে চিতাবাঘ লোকালয়ে চলে আসছে। তাই এলাকায় কোনওরকম উচ্ছিষ্ট না ফেলার জন্য কড়া প্রচার চালাচ্ছে বন দপ্তর। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাঘ-আতঙ্ক জাঁকিয়ে বসেছে।