নিউজ ডেস্ক: ভোটের দামামা বাজার আগেই উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর। বুধবার সকালে গঙ্গাসাগর উপকূল থানার শ্রীধাম ও গঙ্গাসাগর বাসস্ট্যান্ডের মাঝামাঝি এলাকায় এক বিজেপি নেতাকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালাল দুষ্কৃতীরা। আক্রান্ত নেতার নাম ত্রিলোকেশ ঢালি। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রুদ্রনগর এলাকা। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে হামলা: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ৮টা নাগাদ যখন ত্রিলোকেশ বাবু রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় একটি বাইকে চড়ে দুই দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় ত্রিলোকেশ বাবু রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা দ্রুত বাইক ছুটিয়ে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: আক্রান্ত নেতার ছেলে ত্রিদিপ ঢালির সরাসরি অভিযোগ শাসক দল তৃণমূলের দিকে। তাঁর দাবি, “বাবা আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সাগরে আগে এই ধরনের সংস্কৃতি ছিল না। রাজনৈতিকভাবে সরিয়ে দিতেই তৃণমূল এই খুনের চক্রান্ত করেছে।” যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। শাসক শিবিরের পাল্টা দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা ব্যক্তিগত কোনও শত্রুতা থাকতে পারে।
উত্তপ্ত সাগর, এলাকায় পুলিশ বাহিনী: হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। রুদ্রনগর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ শুরু হয়। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হন তাঁরা। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। গঙ্গাসাগর উপকূল থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচনের আগে এই সশস্ত্র হামলা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।